
শরীফুল রুকন : দেশের কৃষি, মৎস্য চাষ, পশু পালন, দুগ্ধ উৎপাদন, পরিবহন, ক্ষুদ্র ব্যবসা, আবাসন, পুঁজি গঠন ও নারীর ক্ষমতায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে সমবায় খাত। বর্তমানে দেশে সমবায় সমিতির সংখ্যা ১ লাখ ৯৬ হাজার ৩১৬টি। এসব সমিতিতে সদস্য আছেন ১ কোটি ১৭ লাখ ৭ হাজার ৫১৪ জন। সমিতিগুলোর মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৬ হাজার ৭৭৮.১৫ কোটি টাকা। এছাড়া সমবায়ের মাধ্যমে মোট কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে মোট ৯ লাখ ৬৩ হাজার ১৫১ জনের। সর্বশেষ গত তিন অর্থবছরে মোট ৩০ হাজার ৫৫২টি নতুন সমবায় সমিতি গঠন হয়েছে; এসব সমিতিতে প্রায় ২৭ লক্ষ ৯১ হাজার ব্যক্তি সদস্য হয়েছেন। সমবায় সমিতিসমূহের মোট সম্পদের পরিমাণ গত তিন বছরে হাজার ৫০১ কোটি ৯৩ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া গত তিন বছরে সমবায় সমিতিগুলোর মাধ্যমে ১ লক্ষ ৬৬ হাজার জনের আত্ম-কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে এবং ১১ কোটি ৩৩ লক্ষ ৭৩ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে নিরীক্ষা ফি প্রদান করা হয়েছে। দেশের সমবায় সমিতিগুলোর অগ্রযাত্রার এসব তথ্য উঠে এসেছে সমবায় অধিদপ্তরের বার্ষিক প্রতিবেদন ২০২০-২১- এ।
এ বিষয়ে সমবায় অধিদপ্তরের নিবন্ধক ও মহাপরিচালক ড. মো. হারুন-অর-রশিদ বিশ্বাস একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘মাঠ পর্যায়ের সমবায় সমিতিগুলো থেকে তথ্য সংগ্রহ করে অধিদপ্তরের এমআইএস শাখা সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে। প্রতিবেদনটিতে যেসব তথ্য উঠে এসেছে, তাতে আমরা দেখতে পাচ্ছি দেশের সমবায় খাত দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘অর্থনীতির সকল খাতেই আজ সমবায় কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নারীর ক্ষমতায়ন ও দারিদ্র্য কমাতে সমবায় সমিতিগুলো গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে ত্বরান্বিত করতে সমবায় আন্দোলনের বিকল্প নেই।’
সমবায় অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে সমবায়ের কিছু নতুন মাত্রা যুক্ত হওয়ায় এর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে নতুন সমবায় সমিতি নিবন্ধনের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। প্রতি বছরই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সমবায় সমিতি নিবন্ধিত হচ্ছে। সমবায় অধিদপ্তরের সরাসরি তত্ত্বাবধানে গঠিত সমবায় সমিতির পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার উদ্যোগেও বিভিন্ন ক্যাটাগরির সমবায় সমিতি নিবন্ধিত হয়ে থাকে। বর্তমানে প্রাথমিক সমবায় সমিতি গঠন হচ্ছে অনেক বেশি।
সমবায় অধিদপ্তরের বার্ষিক প্রতিবেদন ২০২০-২১- এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২০-২০২১ অর্থবছরে প্রাথমিক সমিতির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯৫ হাজার ৮৬ টি। গত ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের তুলনায় এ বছর সমিতির সংখ্যা ৪ হাজার ২৮৭টি বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি বছরের জুন পর্যন্ত সমবায় সমিতির ব্যক্তি সদস্য সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ১৭ লাখ ৭ হাজার ৫১৪ জন। গত ২০১৯-২০২০ সালের তুলনায় এ বছর সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে ১ লাখ ৯৭ হাজার ৬৮৯ জন।
এদিকে ক্ষুদ্র পুঁজির সমন্বয় ঘটিয়ে বৃহৎ মূলধন তৈরি এবং উক্ত মূলধন বিনিয়োগ করে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি করাই হচ্ছে সমবায়ের লক্ষ্য অর্জনের মূল কৌশল। যার প্রধান উৎস হল সদস্যদের কাছে বিক্রি করা শেয়ার। সমবায় অধিদপ্তরের বার্ষিক প্রতিবেদন ২০২০-২১- এ দেখা গেছে, ২০১৯-২০ অর্থবছরের তুলনায় পরিশোধিত শেয়ার মূলধন বৃদ্ধি পেয়ে ২০২০-২১ অর্থবছরে এসে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭৭৫.৬২ কোটি টাকা এবং একই সময়ে সমিতি প্রতি শেয়ার মূলধনের পরিমাণ এসে দাঁড়িয়েছে ৯১ হাজার ১৭ টাকা।
দেশের সমবায় সমিতিগুলোতে ২০২০-২১ অর্থবছরে সঞ্চয় আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৭১১.৪৬ কোটি টাকা। সমিতি প্রতি সঞ্চয় আমানতের পরিমাণ ৪ লাখ ৪৬ হাজার ৫৪৫ টাকা। ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে প্রাথমিক সমবায় সমিতিগুলোর সংরক্ষিত তহবিল ও নীট লাভ হতে গঠিত অন্যান্য তহবিলের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৭৫ কোটি ২০ লক্ষ টাকা। এছাড়া চলতি বছরের জুন নাগাদ প্রাথমিক সমবায় সমিতিগুলোর কার্যকরী মূলধনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ৯৭৫ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা। ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের তুলনায় এ বছর কার্যকরী মূলধনের পরিমাণ ৬২৭ কোটি ৩ লক্ষ বৃদ্ধি পেয়েছে। এদিকে ২০২০-২০২১ অর্থবছরে প্রাথমিক সমবায় সমিতিগুলো বিভিন্ন আর্থিক কর্মকাণ্ডে প্রায় ১৪৩০.৩০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরের তুলনায় এ বছর ৪৪ কোটি টাকা বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেয়েছে।
সমবায় অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, পানির সুষ্ঠু ও টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করতে অবকাঠামো উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনায় সুফলভোগীদের সমন্বয়ে দেশজুড়ে গড়ে উঠেছে ১ হাজার ৪০৭টি পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি। এছাড়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে আশ্রয়হীন ও ভূমিহীন জনগোষ্ঠীকে ভূমি ও বাসস্থান বরাদ্দ করে দেশের জনশক্তির মূলধারায় সংযুক্ত করার প্রয়াসে গড়ে উঠছে ১ হাজার ৪৮৬টি আশ্রয়ণ সমবায় সমিতি। ভূমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিতে এবং নিরাপদ আবাসন স্থাপনের লক্ষ্যে গড়ে উঠছে ২১৯টি গৃহায়ন সমবায় সমিতি। পরিবহন খাতে সংশ্লিষ্ট সমবায় সমিতিগুলো পরিবহনসেবা প্রদানসহ দেশের বেকার সমস্যা সমাধানে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। টেকসই পরিবেশ গড়তে সমবায়ের মাধ্যমে সামাজিক বনায়নকে জনপ্রিয় করে তোলা হচ্ছে। মানব সম্পদ উন্নয়নের লক্ষ্যে সমবায় অধিদপ্তরের আওতাধীন বাংলাদেশ সমবায় একাডেমী ও ১০টি আঞ্চলিক সমবায় প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট এর মাধ্যমে সমবায়ীদের এবং সমবায় অধিদপ্তরের কর্মচারীদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। বঙ্গবন্ধুর গণমুখী সমবায় ভাবনার আলোকে ‘বঙ্গবন্ধু মডেল গ্রাম প্রতিষ্ঠা পাইলট প্রকল্প’ সমবায় অধিদপ্তরের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে সরকার। সমবায়ের মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে সমবায় অধিদপ্তরের আওতায় দেশের প্রতিটি উপজেলায় একটি করে “বঙ্গমাতা মহিলা সমবায় সমিতি” গঠনের কার্যক্রম হাতে নিয়েছে সরকার।
আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সমবায় খাত যেভাবে ভূমিকা রাখছে
কৃষি সমবায়- স্বাধীনতার পর এদেশের কৃষিখাত উন্নয়নে কৃষি সমবায় সমিতির অবদান উল্লেখযোগ্য। কৃষি সমবায়ের সাথে সম্পৃক্ত কেন্দ্রীয় ও প্রাথমিক সমবায় সমিতিসমূহ হচ্ছে : কৃষি/কৃষক সমবায় সমিতি, কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংক, কেন্দ্রীয় বহুমুখী সমবায় সমিতি, ইউনিয়ন বহুমুখী সমবায় সমিতি, উপজেলা কেন্দ্রীয় সমবায় এসোসিয়েশন ও প্রাথমিক ভূমি উন্নয়ন ব্যাংক। বর্তমানে এ ধরনের মোট সমিতির সংখ্যা ৭১ হাজার ৮৯৯ টি। বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংক কর্তৃক এ সকল কৃষি সমবায় সমিতিকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংক প্রধানতঃ কৃষি সমবায় সমিতির জন্য ক্ষুদ্র ঋণ প্রদান, সদস্যদের ও অসদস্য সকলের কাছ থেকে সকল প্রকার আমানত গ্রহণ এবং আমানতের উপর বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়মানুযায়ী অন্যান্য রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংকের সমপরিমাণ হারে সুদ প্রদান করে থাকে। সদস্যভুক্ত কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংক, কেন্দ্রীয় আঁখচাষী সমবায় সমিতি, উপজেলা কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতি ও সমবায় জমি বন্ধকী ব্যাংক সমূহের মাধ্যমে এ ব্যাংকটির কৃষি ঋণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। বর্তমানে এর সদস্য সংখ্যা ৪৭১, শেয়ার মূলধন ৭৩৮.৮৭ লক্ষ টাকা, সঞ্চয় আমানত ৩১৪৯.১১ লক্ষ টাকা এবং সংরক্ষিত তহবিল ২৯৭৩৮.১০ লক্ষ টাকা। সমিতিটি এ বছর ১৯.৬৭ লক্ষ টাকা লভ্যাংশ বিতরণ করেছে এবং সমিতির মোট সম্পদের পরিমাণ ১৯১.০৬ কোটি টাকা। ২০২০-২১ অর্থবছরে বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংক লিঃ ঋণ বিতরণ করেছে ৩৩১৬.০৩ লক্ষ টাকা এবং ঋণ আদায় করেছে ৪৯৫৪.৪৫ লক্ষ টাকা।
বাজারজাতকরণ সমবায়- কেন্দ্রীয় বহুমুখী সমবায় সমিতি, কেন্দ্রীয় ভোগ্যপণ্য সমবায় সমিতি, কেন্দ্রীয় বিক্রয় ও সরবরাহ সমবায় সমিতি, প্রাথমিক ভোগ্যপণ্য সমবায় সমিতি ইত্যাদি বাজারজাতকরণ সমবায় সমিতির অর্ন্তভুক্ত। বর্তমানে দেশে এ ধরনের মোট সমিতির সংখ্যা ৭০২টি এবং ব্যক্তি সদস্য সংখ্যা ৩০ হাজার ১৯৫ জন, শেয়ার মূলধনের পরিমাণ ৮২৬.০২ লক্ষ টাকা, সঞ্চয় আমানতের পরিমাণ ১ হাজার ৯৪৭.০৮ লক্ষ টাকা, সংরক্ষিত তহবিল ৫০৩.৭৩ লক্ষ টাকা এবং নীট লাভের পরিমাণ ১৬৭.৬২ লক্ষ টাকা।
বাংলাদেশ সমবায় মার্কেটিং সোসাইটি কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের সঠিক মূল্য প্রদান ও পণ্যের সুষ্ঠু বাজারজাতকরণের মধ্য দিয়ে সদস্য সমিতিগুলোকে সমৃদ্ধশালী করার লক্ষ্যে কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। বর্তমানে এ সমিতির সদস্য সংখ্যা ১৪৭ টি, শেয়ার মূলধন ৪৬.৬১ লক্ষ টাকা, সংরক্ষিত তহবিল ৪৬.৬৬ লক্ষ টাকা এবং সঞ্চয় আমানত ০.৩৪ লক্ষ টাকা ।
শিল্প সমবায়- কেন্দ্রীয় ও প্রাথমিক তাঁতী সমবায় সমিতি, কেন্দ্রীয় সুতা পাকানো সমবায় সমিতি, কেন্দ্রীয় হস্ত শিল্প সমবায় ফেডারেশন ও প্রাথমিক মৃৎ শিল্প সমবায় সমিতি ইত্যাদি শিল্প সমবায় সমিতির অর্ন্তভুক্ত বর্তমানে দেশে এ প্রকারের মোট সমবায় সমিতির সংখ্যা ৩ হাজার ৬২২টি এবং ব্যক্তি সদস্য সংখ্যা ১ লাখ ৪৩ হাজার ৮৮৭ জন, শেয়ার মূলধনের পরিমাণ ১ হাজার ৪৯৭.১৬ লক্ষ টাকা এবং সঞ্চয় আমানতের পরিমাণ ১২ হাজার ৯৬২.৬৯ লক্ষ টাকা। এছাড়াও চারটি জাতীয় সমবায় সমিতি (বাংলাদেশ জাতীয় সমবায় শিল্প সমিতি লিমিটেড, বাংলাদেশ সমবায় শিল্প সংস্থা লিমিটেড, দি ইষ্টার্ন কো-অপারেটিভ জুট সোসাইটি লিমিটেড, সোনার বাংলা সমবায় কটন মিলস্ লিমিটেড) এ কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ত রয়েছে।
বাংলাদেশ জাতীয় সমবায় শিল্প সমিতি সমবায়ী তাঁতীদের জন্য বিদেশ থেকে সুতা, রং, রাসায়নিক দ্রব্য ও তাঁতের খুচরা যন্ত্রাংশ আমদানিসহ তাঁতীদের ঋণ প্রকল্প ও স্থানীয় মিলের সুতা বিতরণ করাসহ বিভিন্ন উদ্দেশ্য নিয়ে ১৯৫৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে সমিতির সদস্য সংখ্যা ৫২টি। সমিতির শেয়ার মূলধন ৪২.৮১ লক্ষ টাকা, সংরক্ষিত তহবিল ১৭১.৮৩ লক্ষ টাকা এবং সঞ্চয় আমানতের পরিমাণ ০.০৬ লক্ষ টাকা।
বাংলাদেশ সমবায় শিল্প সংস্থা পাট চাষীদের পাটের ন্যায্যমূল্য প্রদানকল্পে একটি পূর্ণাঙ্গ পাটকল স্থাপন করার উদ্দেশ্য নিয়ে একটি জাতীয় সমবায় সমিতি হিসাবে ১৯৪৯ সালের ১৫ ডিসেম্বর নিবন্ধিত হয়। বর্তমানে সমিতির সদস্য সংখ্যা ৩৩৬ টি। সমিতির শেয়ার মূলধন ৪.৭৩ লক্ষ টাকা, সংরক্ষিত তহবিল ২১২.৭৯ লক্ষ টাকা এবং সঞ্চয় আমানতের পরিমাণ ২.৭৮ লক্ষ টাকা ।
পাট উৎপাদনকারীদের অধিক পাট উৎপাদনের উৎসাহ প্রদান, পাট ও পাটজাত দ্রব্যাদি বাজারজাতকরণের মাধ্যমে উৎপাদনকারীদের ন্যায্যমূল্য প্রদান, পাট ও পাটজাত দ্রব্যাদি প্রস্তুতকারী শ্রমিকদের জন্য সমবায় পাটকল প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য নিয়েই ১৯৬১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় দি ইষ্টার্ন কো-অপারেটিভ জুট মিলস্ লি.। পরবর্তীতে ২০০৬ সালে এর নাম আংশিক সংশোধন করে দি ইষ্টার্ন কো-অপারেটিভ জুট সোসাইটি লি. নামকরণ করা হয়। বর্তমানে সমিতির সদস্য সংখ্যা ৮৭৫ টি। সমিতির শেয়ার মূলধন ২২.৫২ লক্ষ টাকা এবং সংরক্ষিত তহবিল ৫.৫৬ লক্ষ টাকা।
১৯৭২ সালের ২৭ মার্চ উপ-আইন সংশোধনের মাধ্যমে ইষ্ট পাকিস্তানে কো-অপারেটিভ কটন স্পিনিং মিলসকে সোনার বাংলা সমবায় কটন মিলস্ লি. নামে পুনরায় নামকরণ করা হয়। বর্তমানে সমিতির সদস্য সংখ্যা ১ হাজার ৩৬০টি, শেয়ার মূলধন ৪.১৩ লক্ষ টাকা এবং সংরক্ষিত তহবিল ৩৫.৯৫ লক্ষ টাকা।
মৎস্য সমবায় – বর্তমানে দেশের মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের বৃহৎ অংশ মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সদস্য। প্রাথমিক মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি, কেন্দ্রীয় মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি ও বাংলাদেশ জাতীয় মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লি. এর অর্ন্তভুক্ত। বর্তমানে কেন্দ্রীয় ও প্রাথমিক মৎস্যজীবী সমিতির সর্বমোট সংখ্যা ১০ হাজার ১৮৭টি (প্রাথমিক সমিতির সংখ্যা ১০ হাজার ১১৪টি, কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতির সংখ্যা ৭৩টি), ব্যক্তি সদস্য সংখ্যা ৩ লাখ ৮৩ হাজার ৮৭৮ জন, শেয়ার মূলধনের পরিমাণ ২ হাজার ৫২৪.৮২ লক্ষ টাকা, সঞ্চয় আমানতের পরিমাণ ৫ হাজার ৭৯৭.৯৫ লক্ষ টাকা এবং নীট লাভের পরিমাণ ১ হাজার ৬১৮.৩৪ লক্ষ টাকা।
এছাড়াও বাংলাদেশ জাতীয় মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লি. নামে একটি জাতীয় সমবায় সমিতি এ কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ত রয়েছে। বর্তমানে উক্ত সমিতির সদস্য সংখ্যা ৯১টি, শেয়ার মূলধন ১৩.৬৬ লক্ষ টাকা, সংরক্ষিত তহবিল ২০৫.৮৬ লক্ষ টাকা এবং সঞ্চয় আমানত ৪৪.১৭ লক্ষ টাকা। মোট সম্পদের পরিমাণ ৭৬০.৩০ লক্ষ টাকা।
মহিলা সমবায়- জাতীয় মহিলা সমবায় সমিতি, প্রাথমিক ও কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতি, কেন্দ্রীয় মহিলা সমবায় সমিতি, প্রাথমিক মহিলা সমবায় সমিতি এবং প্রাথমিক বিআরডিবিভুক্ত মহিলা সমবায় সমিতিগুলো এর অন্তর্ভুক্ত। বর্তমানে সর্বমোট ২৭ হাজার ৪৯১টি মহিলা সমবায় সমিতি রয়েছে, ব্যক্তি সদস্য সংখ্যা ৯ লাখ ৮৬ হাজার ৪৬৮ জন, শেয়ার মূলধনের পরিমাণ ২০ হাজার ৩৫.৮৩ লক্ষ টাকা, সঞ্চয় আমানতের পরিমাণ ২৪ হাজার ৫৮৫.৯২ লক্ষ টাকা, নীট লাভের পরিমাণ ৬৮.৯৭ লক্ষ টাকা এবং কার্যকরী মূলধনের পরিমাণ ৭৪ হাজার ৩৬৯.৮৪ লক্ষ টাকা।
বিভিন্ন প্রকার হস্তজাত পণ্য উৎপাদন, সেলাই, এমব্রয়ডারি ইত্যাদি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির উদ্দেশ্য নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা সমবায় সমিতি লি: ১৯৭৭ সালের মে মাসে নিবন্ধিত হয়। বর্তমানে সমিতির সদস্য সংখ্যা ৩৯টি, শেয়ার মূলধনের পরিমাণ ০.০৯ লক্ষ টাকা এবং সংরক্ষিত তহবিল ০.১০ লক্ষ টাকা। মোট সম্পদের পরিমাণ ২.৫৯ লক্ষ টাকা।
পরিবহন সমবায়- পরিবহন খাতে সম্পৃক্ত কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতিগুলো হচ্ছে কেন্দ্রীয় ট্রাক চালক সমবায় সমিতি ও কেন্দ্রীয় মেক্সি চালক সমবায় সমিতি। প্রাথমিক সমবায় সমিতি যেমন প্রাথমিক অটোরিক্সা, অটোটেম্পো, টেক্সিক্যাব, মটর, ট্রাক ও ট্যাংক/লরী চালক সমবায় সমিতি এবং প্রাথমিক মটর মালিক ও শ্রমিক সমবায় সমিতি ইত্যাদি এর অন্তর্ভুক্ত। বর্তমানে এ শ্রেণির প্রাথমিক ও কেন্দ্রীয় সর্বমোট সমিতির সংখ্যা ১ হাজার ৪১৭টি, ব্যক্তি সদস্য সংখ্যা ১ লাখ ৭ হাজার ৫৫৭ জন, শেয়ার মূলধনের পরিমাণ ৭৭৮.৯৬ লক্ষ টাকা, সঞ্চয় আমানতের পরিমাণ ৬২৪৮.৫৯ লক্ষ টাকা এবং কার্যকরী মূলধনের পরিমাণ ১৫৪৩৮.১৮ লক্ষ টাকা।
গৃহায়ন সমবায়- ঢাকাসহ বড় বড় শহরের জনসংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধির ফলে আবাসিক সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে সমবায় ভিত্তিক গৃহনির্মাণের স্বতঃস্ফূর্ত প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। ফলে সারা দেশে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক গৃহ নির্মাণ সমবায় সমিতি গড়ে উঠেছে। প্রাথমিক গৃহ নির্মাণ সমবায় সমিতি এবং প্রাথমিক ফ্ল্যাট/এপার্টমেন্ট মালিক সমবায় সমিতি এর অন্তর্ভুক্ত। বর্তমানে এ শ্রেণির সমিতির সংখ্যা ২১৯টি এবং ব্যক্তি সদস্য সংখ্যা ৫৪ হাজার ১৯৩ জন, শেয়ার মূলধনের পরিমাণ ৩ হাজার ৮০৪.৮৩ লক্ষ টাকা, সঞ্চয় আমানতের পরিমাণ ৬ হাজার ৯৩৮.১৭ লক্ষ টাকা এবং কার্যকরী মূলধনের পরিমাণ ১৬ হাজার ৪৬৪.৩৪ লক্ষ টাকা।
দুগ্ধ সমবায়- দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় সমিতি ক্ষুদ্র, প্রান্তিক এবং হতদরিদ্র কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নে এবং দারিদ্র্য বিমোচনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। প্রাথমিক দুগ্ধ সমবায় সমিতি এবং বাংলাদেশ দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় ইউনিয়ন লি. ব্র্যান্ড নাম মিল্কভিটা নামে একটি জাতীয় সমিতি এ খাতের নেতৃত্ব প্রদান করছে। বর্তমানে প্রাথমিক দুগ্ধ সমবায় সমিতির সংখ্যা ২ হাজার ৬৮৩টি, ব্যক্তি সদস্য ১ লাখ ২৪ হাজার ৯০ জন, শেয়ার মূলধন ৭৮১.০০ লক্ষ টাকা, সঞ্চয় আমানত ৯৯৬.২৮ লক্ষ টাকা এবং নীট লাভের পরিমাণ ২২৬.২৮ লক্ষ টাকা এবং কার্যকরী মূলধনের পরিমাণ ১১১৬৪.৬৪ লক্ষ টাকা।
বর্তমানে মিল্কভিটার সদস্য ৮১টি কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতি, শেয়ার মূলধনের পরিমাণ ৪ হাজার ৭৫১.৪৪ লক্ষ টাকা, সঞ্চয় আমানতের পরিমাণ ৭৯.৩০ লক্ষ টাকা, সংরক্ষিত তহবিল ৪৫৬৭.৭০ লক্ষ টাকা এবং নীট লাভের পরিমাণ ১৩.১৪ লক্ষ টাকা এবং ২০২০-২১ অর্থ বছরে মিল্কভিটা প্রায় ৪.৫০ কোটি লিটার দুগ্ধ সংগ্রহ করেছে। ফলে সমবায়ী দুগ্ধ খামারীগণ আর্থিকভাবে উপকৃত হয়েছেন।
বীমা সমবায়- বাংলাদেশ কো-অপারেটিভ ইন্স্যুরেন্স লি. এবং বাংলাদেশ কো-অপারেটিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্স সোসাইটি লি. নামে দুটি জাতীয় সমবায় সমিতি এ খাতের সাথে সম্পৃক্ত। ১৯৮৪ সালের ১০ ডিসেম্বর ‘বাংলাদেশ কো-অপারেটিভ ইন্স্যুরেন্স লি.’ প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে এ সমিতির সদস্য সংখ্যা ৫০১ টি, শেয়ার মূলধন ৯৮.৪৭ লক্ষ টাকা এবং সংরক্ষিত তহবিল ৯৪.৯৫ লক্ষ টাকা । এদিকে ১৯৮৪ সালে ‘বাংলাদেশ কো-অপারেটিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্স’ নামে সমিতিটি নিবন্ধিত হয়। বর্তমানে এ সমিতির সদস্য সংখ্যা ৬০৯ টি, শেয়ার মূলধন ৮.৫৬ লক্ষ টাকা।
সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায়- প্রাথমিক সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি, প্রাথমিক কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন এবং প্রাথমিক কো-অপারেটিভ ক্রেডিট সমবায় সমিতি ইত্যাদি সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। বর্তমানে এ ধরনের সমিতির সংখ্যা ১১ হাজার ৯১০টি এবং ব্যক্তি সদস্য সংখ্যা ১৪ লাখ ৮০ হাজার ৬০২ জন, শেয়ার মূলধন ৫৩৭.০২ কোটি টাকা, সঞ্চয় আমানত ২৭৯৮.১৫ কোটি টাকা, নীট লাভের পরিমাণ ৪৮.৯১ কোটি টাকা এবং কার্যকরী মূলধনের পরিমাণ ৪ হাজার ৩.২৬ কোটি টাকা। এ খাতের সাথে সম্পৃক্ত রয়েছে দি কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লীগ অব বাংলাদেশ লি. (কালব) নামে একটি কেন্দ্রীয় সমিতি। কালব এর সদস্য সংখ্যা ৮৩৮টি প্রাথমিক সমিতি, শেয়ার মূলধন ৩৫৪.৭২ কোটি টাকা, সঞ্চয় আমানতের পরিমাণ ১৬৪৮.৬৩ কোটি টাকা এবং কার্যকরী মূলধনের পরিমাণ ২ হাজার ৩৬৩.৬৮ কোটি টাকা।
আশ্রয়ণ সমবায়- আশ্রয়ণ প্রকল্প একটি দারিদ্র বিমোচন প্রকল্প এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীভুক্ত কর্মসূচি। প্রথম পর্যায়ে আশ্রয়ণ প্রকল্প (১৯৯৭-২০০২) মেয়াদে ৩০০.০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬১৫টি প্রকল্প গ্রামের মাধ্যমে ৪৭ হাজার ২১০টি পরিবার পুনর্বাসন করা হয়। দ্বিতীয় পর্যায়ে (২০০২-২০১০) মেয়াদে আশ্রয়ণ (ফেইজ-২) প্রকল্প নামে ৬০৮.০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭৩৪টি প্রকল্প গ্রামের মাধ্যমে প্রায় ৫৮ হাজার ৭০৩টি পরিবার পুনর্বাসন করা হয়। এ পর্যন্ত তিনটি ফেইজে মোট ৩ লাখ ১৯ হাজার ১৪০টি পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়। তন্মধ্যে আম্রয়ণ-২ প্রকল্পের মাধ্যমে ২ লাখ ১৩ হাজার ২২৭টি পরিবার পুনর্বাসন করা হয়েছে। চলতি বছরের জুন পর্যন্ত সারা দেশে ১ হাজার ৪৮৬টি আশ্রয়ণ সমবায় সমিতি নিবন্ধিত হয়েছে, যার সদস্য সংখ্যা ১ লাখ ৫৮ হাজার ৫৪০ জন, শেয়ার মূলধন ১০৯.০০ লক্ষ টাকা, সঞ্চয় আমানত ৫৫৩.২৯ লক্ষ টাকা এবং কার্যকরী মূলধনের পরিমাণ ৫৬৫৩.৩০ লক্ষ টাকা।
পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি- পানি সম্পদকে পরিকল্পিতভাবে সংরক্ষণ, ব্যবহার ও ক্ষেত্র বিশেষে এর ক্ষতিকর প্রভাব কমিয়ে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রকল্প নেয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন উপ-প্রকল্প এলাকায় পানি সম্পদ উন্নয়নের লক্ষ্যে নির্মাণ করা হয়েছে ভৌত অবকাঠামো। এই অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ ও দক্ষ ব্যবহারের উদ্দেশ্যে এলাকার সকল শ্রেণির জনগণের প্রতিনিধিত্বে গঠিত হয়েছে পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি (পাবসস)। চলতি বছরের জুন পর্যন্ত পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির সংখ্যা ১ হাজার ৪০৭টি, ব্যক্তি সদস্য সংখ্যা ৪ লাখ ৪২ হাজার ৫১১ জন, শেয়ার মূলধন ৯৫৬.১২ লক্ষ টাকা, সঞ্চয় আমানত ৪ হাজার ৩৭৬.৪৫ লক্ষ টাকা এবং কার্যকরী মূলধন ৭ হাজার ৩০৯.১০ লক্ষ টাকা।
সমবায় সমিতির নামে সক্রিয় প্রতারকরাও
২০০৮ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত সময়ে উধাও হয়ে যাওয়া প্রতারক সমিতিগুলোর ওপর একটি প্রতিবেদন তৈরি সমবায় অধিদপ্তর। এতে উল্লেখ করা হয়, ২৬৬টি ‘সমবায় সমিতি’ সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকার আমানত সংগ্রহ করার পর তা আর ফেরত দিচ্ছে না; অধিকাংশই অফিস গুটিয়ে লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে গেছে।
সমবায় অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে চট্টগ্রামে ৭ হাজার ১৪২টি সমবায় সমিতির নিবন্ধন রয়েছে। এর মধ্যে কিছু সমিতি বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়াই উচ্চ মুনাফার লোভ দেখিয়ে মানুষের কাছ থেকে শত শত কোটি টাকা আমানত সংগ্রহ করে অন্য ব্যবসায় বিনিয়োগ করছে বলে অভিযোগ আছে। টাকা নিয়ে কোনো সমিতি লাপাত্তাও হয়ে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা সমবায় কর্মকর্তা মুহাম্মদ তানিম রহমান একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘নিবন্ধন নেয়া সমবায় সমিতিগুলোর কাজের বিষয়ে আমরা নিয়মিত অডিট করি। অনিয়মে জড়িত সমিতির সংখ্যা খুবই কম। অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় ২০-২১ অর্থবছরে চট্টগ্রামে দুটি সমিতির নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘প্রতারক সমিতিগুলোর বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন হতে হবে। তারা উচ্চ মুনাফার প্রলোভন ত্যাগ করলে প্রতারকদের সব কলাকৌশল ব্যর্থ হবে।’
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন), চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক আখতার কবীর চৌধুরী একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘সমবায়ের সঙ্গে সংশ্নিষ্ট সবাই আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করলে এ খাত আরও অনেক দূর এগিয়ে যাবে। সমবায়ের কাজে যারা দক্ষ তাদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে এবং সৎভাবে তারা যেন কাজ করে সেই বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ভুয়া সমবায় সমিতিগুলোকে চিহ্নিত করে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া জরুরি। এ ব্যাপারে সমবায় অধিদপ্তরকে আরও তৎপর হতে হবে। সমবায় নামধারী ভুয়া প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতেও পদক্ষেপ নিতে হবে। তাহলে প্রকৃত সমবায় সমিতিগুলোর অগ্রযাত্রা আরও সুগম হবে।’