
চট্টগ্রাম : মিশরের আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয় গ্র্যাজুয়েটসদের বিশ্বব্যাপী সংগঠন দ্য ওয়ার্ল্ড অরগ্যানাইজেশন ফর আল-আযহার এর বাংলাদেশ শাখার যাত্রা শুরু হয়েছে। সংগঠনটির বাংলাদেশ শাখার নেতৃত্বে রয়েছেন সমাজসেবায় বিশেষ অবদানের জন্য একুশে পদকপ্রাপ্ত পিএইচপি ফ্যামিলির চেয়ারম্যান সূফী মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।
১০ এপ্রিল (রবিবার) চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সংগঠনের যাত্রা শুরু হয়। এতে সংগঠনটির বাংলাদেশ শাখার শুভযাত্রা ও আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৮২ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে মিশরের আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন নেতৃবৃন্দ।
সংগঠনের সভাপতি সূফী মোহাম্মদ মিজানুর রহমান সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন সাউদার্ন বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের প্রধান দ্য ওয়ার্ল্ড অরগ্যানাইজেশন ফর আল-আযহার গ্র্যাজুয়েটস বাংলাদেশ শাখার সাধারণ সম্পাদক ড. সৈয়দ মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন আজহারী, নেছারিয়া আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা রফিক উদ্দিন ও আল-আযহার গ্র্যাজুয়েটসগণ।
বক্তারা বলেন, মিশরের আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েটসদের মাঝে সেতুবন্ধন ও কুরআন সুন্নাহর আলোকে মধ্যমপন্থা অবলম্বনের মাধ্যমে আযহার শরীফের সঠিক বার্তা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেয়ার লক্ষ্যে এই সংগঠন– দ্য ওয়ার্ল্ড অরগ্যানাইজেশন ফর আল-আযহার। ২০০৭ সালে মিশরীয় আইনের ৭১৪৫ নং ধারা অনুসারে তৎকালীন আযহারের গ্রান্ড ইমাম তথা শাইখুল হাদীস আযহার ড. সাইয়্যেদ তানতাভী (রহঃ), বর্তমান গ্রান্ড ইমাম বা শাইখুল আযহার ড. আহমাদ আত তাইয়্যেব হাফিযাহুল্লাহ এবং মিশরের সাবেক ধর্মমন্ত্রী ড. হামিদ যাকযুক (রহঃ)সহ একঝাঁক আযহারি স্কলারদের উপস্থিতিতে এ সংগঠন প্রতিষ্ঠা পায়।
তবে সংগঠনটি সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়লেও ২০১৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে এর কোন শাখা গঠিত হয়নি৷ যদিও বাংলাদেশের বিভিন্ন ঘরানার আযহারি শিক্ষার্থীরা দেশের হাই প্রোফাইলড ব্যক্তিত্বদেরকে সভাপতি ও সেক্রেটারি হিসেবে মনোনয়নের প্রস্তাব প্রেরণ করে এবং তদবির চালায়। কিন্তুু তা যথাযথ পন্থায় না হওয়ায় সংগঠনটি আলোর মুখ দেখেনি।
সর্বশেষ ২০১৮ সালে সংগঠনের মিশরের নেতৃবৃন্দ বাংলাদেশের প্রতিথযশা সূফী ব্যক্তিত্ব, বিশিষ্ট ইসলামী গবেষক একুশে পদক প্রাপ্ত পিএইচপি ফ্যামিলির চেয়ারম্যান সূফী মোহাম্মদ মিজানুর রহমানকে বাংলাদেশ শাখার সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করার অনুরোধ করেন। পরবর্তীতে বাংলাদেশ সরকার ও মিশর সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দাপ্তরিক অনুমোদন লাভ করে সংগঠনটি।
সংবাদ সম্মেলনের তথ্যমতে, সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যগুলো হলো- ১. বিশ্বব্যাপী আযহারি গ্র্যাজুয়েটসদের মাঝে সেতুবন্ধন রচনা করা ২. লোকাল ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন একাডেমিক ও ধর্মীয় কনফারেন্স, সভা-সেমিনার আয়োজন ৩. আন্তর্জাতিক ইমাম ট্রেনিংয়ের আয়োজন ৪. বিভিন্ন ধর্মীয়, সামাজিক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা। ৫. স্কলারশিপ প্রদান, মেধাবী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা। ৬. বিভিন্ন ক্যাটাগরির স্বেচ্ছাসেবায় অংশগ্রহণ।৭. দাওয়াহ ও ফতোয়া সংক্রান্ত ট্রেনিং আয়োজন। ৮. এসোসিয়েশনের ও মিশরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাথে সম্পৃক্ত সারাবিশ্বে ছড়িয়ে থাকা এসোসিয়েশনের শাখাগুলোর সাথে যোগাযোগ ও সম্পর্ক জোরদার করা।