রবিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২

ভরা মৌসুমে আরও বাড়ল চালের দাম

| প্রকাশিতঃ ৪ নভেম্বর ২০২২ | ৮:২৩ পূর্বাহ্ন


একুশে প্রতিবেদক : বিভিন্ন জায়গায় আমন ধান কাটা শুরু হয়েছে। সরকারও ইতিমধ্যে আমন ধান-চাল কেনার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে। আমন ধানের নতুন চালও বাজারেও আসতে শুরু করেছে। সাধারণত নতুন চাল আসা শুরু হলে বাজারের চালের দাম কমতে শুরু করে। তবে এবার তার উল্টো দেখা যাচ্ছে। নতুন চাল বাজারে আসার পরও চালের দাম বাড়ল আরেক দফা। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে সব ধরনের চালের দাম কেজিতে দুই থেকে তিন টাকা বেড়েছে। এতে সাধারণ মানুষ আরও বিপাকে পড়েছেন।

গত মঙ্গলবার খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার জানান, আমন মৌসুমে তিন লাখ টন ধান ও পাঁচ লাখ টন চাল কিনবে সরকার। এ বছর আমন ধান ও চালের সরকারি সংগ্রহ মূল্যও ঠিক করা হয়। চলতি বছর আমন ধানের সরকারি ক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি কেজি ২৮ টাকা এবং চালের মূল্য প্রতি কেজি ৪২ টাকা। গত বছর আমন মৌসুমে ২৭ টাকা কেজি দরে ধান ও ৪০ টাকা কেজি দরে চাল কিনেছিল সরকার। সরকারি ধান-চাল ক্রয়ের ঘোষণা দেওয়ার মধ্যেই চালের বাজারকে আরও ঊর্ধ্বমুখী হতে দেখা যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর বেশ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে চিকন, মাঝারি এবং মোটা-সব ধরনের চালের দাম নতুন করে বেড়েছে।

চট্টগ্রামের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত সপ্তাহে সবচেয়ে ভালো মানের মিনিকেট চালের কেজি ছিল ৭৫ থেকে ৭৬ টাকা। এখন সেটি ৭৮ থেকে ৮০ টাকা হয়েছে। মাঝারি মানের মিনিকেট চালের কেজি ছিল ৭০ থেকে ৭২ টাকা, এখন হয়েছে ৭৫ টাকা। ভালো মানের নাজিরশাইল চালের কেজি ৮০ টাকা, এখন হয়েছে ৮২ থেকে ৮৫ টাকা। মাঝারি মানের বি-আর ২৮ চালের কেজি ছিল ৫৮ থেকে ৬০ টাকা, এখন হয়েছে ৬২ থেকে ৬৫ টাকা, পাইজাম চালের কেজি ছিল ৫৮ টাকা, এখন হয়েছে ৬০ টাকা। এ ছাড়া মোটা চালের কেজি ছিল ৫২ টাকা, এখন হয়েছে ৫৫ টাকা। এভাবে গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে সব ধরনের চালের দাম বেড়েছে।

চালের দাম বৃদ্ধির বিষয়ে ব্যবসায়ীরা বলছেন, ধীরে ধীরে যত নতুন চাল বাজারে আসে, দামও তত কমতে থাকে, কিন্তু এবার ব্যতিক্রম। আমন মৌসুমের নতুন চাল ইতোমধ্যেই বাজারে চলে এসেছে, তবে দাম না কমে উল্টো আরও বাড়ছে। মিল থেকে বস্তাপ্রতি চালের দাম বাড়ানো হয়েছে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা। মূলত মিলে দাম বৃদ্ধির কারণেই খুচরা ও পাইকারি বাজারে চালের দাম বেড়েছে।

অন্যদিকে সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্যও বলছে, চালের দাম এ সপ্তাহে আবারও বেড়েছে। টিসিবির তথ্যমতে চিকন চাল গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে ৬৩ থেকে ৭৫ টাকায়, এ সপ্তাহে বিক্রি হচ্ছে ৬৫ থেকে ৭৫ টাকায়। মাঝারি মানের চাল বিক্রি হয়েছে ৫২ থেকে ৫৬ টাকায়, এ সপ্তাহে বিক্রি হচ্ছে ৫২ থেকে ৫৮ টাকায়। তবে টিসিবির তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে, মোটা চালের দামে কোনো হেরফের হয়নি। মোটা চাল ৪৮ থেকে ৫২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

অবশ্য টিসিবি গত এক বছরে দামের যে চিত্র তুলে ধরেছে তাতে দেখা যায়-এক বছরের ব্যবধানে চিকন চালের দাম বেড়েছে ১২ দশমিক ৯০ শতাংশ। গত বছরের ৩ নভেম্বর ঢাকার বাজারে চিকন চালের কেজি ছিল ৫৮ থেকে ৬৬ টাকা, এখন ৬৫ থেকে ৭৫ টাকা। গত বছর মাঝারি চালের কেজি ছিল ৪৮ থেকে ৫৬ টাকা, এখন ৫২ থেকে ৫৮ টাকা। এক বছরে বেড়েছে ৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ। এ ছাড়া গত বছর মোটা চালের কেজি ছিল ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, এখন ৪৮ থেকে ৫২ টাকা। মোটা চালের দাম এক বছরে বেড়েছে ৫ দশমিক ২৬ শতাংশ।

অন্যদিকে বাংলাদেশের বাজারে চাল, আটা ও ভুট্টার দামে রেকর্ড হয়েছে। খাদ্যের দামে যে রেকর্ড হয়েছে, তা উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) তৈরি করা বাংলাদেশের দানাদার খাদ্য পরিস্থিতির প্রতিবেদনে। সম্প্রতি প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।

ইউএসডিএ বাংলাদেশে খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধির জন্য চারটি কারণকে দায়ী করেছে-আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়ে যাওয়া, জাহাজ ভাড়া ও অন্যান্য ব্যয় বৃদ্ধি, ডলারের দাম বেড়ে যাওয়া এবং দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি।

সংস্থাটির প্রতিবেদনে এ-ও জানানো হয়, বাংলাদেশে প্রধান খাদ্যগুলোর মোট উৎপাদনে তেমন হেরফের হয়নি। চাল, ভুট্টা ও গমের উৎপাদন এবার লক্ষ্য ছুঁয়ে যাবে। সরকারি ও বেসরকারি খাতে চাল ও গমের আমদানিও হচ্ছে। তবে গম আমদানি কমতে পারে।

ইউএসডিএ খাদ্য পরিস্থিতি প্রতিবেদনটি তৈরি করতে বাংলাদেশের কৃষি বিপণন অধিদফতর, ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) ও খাদ্য অধিদফতরসহ সরকারি সংস্থাগুলোর তথ্য ব্যবহার করেছে। এতে দেখানো হয়, বাংলাদেশের বাজারে গত আগস্টে মোটা চালের কেজিপ্রতি গড় দর ৫৩ টাকায় ওঠে। এর পর সেপ্টেম্বরে তা কিছুটা কমে ৫০ টাকা হয়। যদিও ২০২০ সালের জানুয়ারির দিকে দাম ছিল ৩২ টাকার আশপাশে। সরু চালের গড় দাম সেপ্টেম্বরে দাঁড়ায় কেজিপ্রতি ৭৩ টাকা, যা গত এক বছরে ১২ শতাংশ বেড়েছে।