মঙ্গলবার, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৫ মাঘ ১৪২৯

রোজার দুমাস আগেই অস্থির নিত্যপণ্যের বাজার, অসহায় ক্রেতা

প্রকাশিতঃ ২২ জানুয়ারী ২০২৩ | ১০:০৩ পূর্বাহ্ন


একুশে প্রতিবেদক : প্রতিবছর রমজান মাস আসার আগেই নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যায়। আর রমজানে এই নিত্যপণ্যের দাম সহনীয় রাখতে সরকার ও ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো প্রতিবছর নানারকম অঙ্গীকার-প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকেন। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন।

এখনই হু হু করে বাড়ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। রমজানের প্রায় দুই মাস বাকি থাকলেও এখন থেকেই প্রতিটি পণ্যের মূল্য আকাশছোঁয়া।

গত ১০ মাসে দফায় দফায় নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে খেজুর, চিনি, আটা, ময়দা, ভোজ্যতেল, বেসন, মুড়ি, ছোলাসহ বিভিন্ন পণ্যের দামও বেড়েছে। এতে প্রায় প্রতিটি পণ্যই সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে।

নগরীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, কালমি মরিয়ম খেজুর প্রতি কেজি ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত বছরের রমজান মাসে ৫০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ১০ মাসে ৩০০ টাকা বেড়েছে প্রতি কেজিতে ।

এছাড়া, মাবরুম খেজুর ৮০০ টাকা থেকে বেড়ে ১০০০ টাকা, আজোয়া খেজুর ১৫০ টাকা বেড়ে ৮৫০ টাকা, সৌদি মরিয়ম খেজুর ২০০ টাকা বেড়ে ৯০০ টাকা, মেডজুল খেজুর ২০০ বেড়ে ১২০০ টাকা, বরই খেজুর ২০০ টাকা বেড়ে ৪০০ টাকা, বারারি ৬০০ থেকে বেড়ে ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে, দেশি মুড়ি খোলা ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা ১০ মাস আগে প্রতিকেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা ছিল। প্যাকেট আল্ট্রা জেষ্টা মুড়ি ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা ১০ মাস আগে ১০০ টাকা কেজি ছিল। এসব মুড়ি ৩০ থেকে ৪০ টাকা দাম বেড়েছে।

মুদির দোকানে চিনির কেজি ৬০ টাকা থেকে দ্বিগুন বেড়ে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ছোলা প্রতিকেজি ৩০ টাকা বেড়ে ৯০ টাকা, বুটের বেসন ৯০ থেকে ৩০ টাকা বেড়ে ১২০ টাকা, এঙ্কর বেসন ৭০ থেকে ১০ টাকা বেড়ে ৮০ টাকা, দেশি আদা প্রতিকেজি ১০০ টাকা বেড়ে ১৬০ টাকা, আমদানি করা আদা ১২০ টাকা বেড়ে ২০০ টাকা, চায়না রসুন বেড়ে ২০০ টাকা, আমদানি করা মসুর ডাল (বড় দানা) প্রতিকেজি ২৫ টাকা বেড়ে ১০৫ টাকা, দেশি মসুর ডাল (ছোট দানা) প্রতিকেজি ২০-৩০ টাকা বেড়ে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা, অ্যাঙ্কর ডাল প্রতিকেজি ১০/১৫ টাকা বেড়ে ৭০ থেকে ৮০ টাকা, ২ কেজি ওজনের আটার প্যাকেট ১৩৫ টাকা, ২ কেজি ওজনের ময়দা ১৫০ টাকা, ভোজ্যতেল প্রতি লিটার ১৮৫ টাকা, প্রতিকেজি জিরা ৮০০ টাকা, লবঙ্গ প্রতি কেজি ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে, চালের বাজারে কোনো স্বস্তির খবর নেই বললেই চলে। বাজারে পোলাওয়ের চাল ছাড়া অন্যান্য চালের মধ্যে স্বর্ণার কেজি ৪৬ থেকে ৪৮ টাকা। ব্রি-আটাশ ৫২ থেকে ৫৭ টাকা, মিনিকেট ৭২ টাকা ও নাজিরশাইলের দাম ৭৫ থেকে ৮৫ টাকা কেজি। আর পোলাও এর চালের দাম ১৩৫ থেকে ১৪৫ টাকা।

সাধারণ ভোক্তাদের অভিযোগ, সরকার নিত্যপণ্যের বাজারের মূল দায়িত্ব ব্যবসায়ীদের ওপর ছেড়ে দিয়েছে, ফলে বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা দৃশ্যমান নেই। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সরকারের সংশ্লিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষও সাধারণ মানুষের এই আকাঙ্ক্ষিত নিত্যপণ্যের বাজার তদারকির ন্যূনতম কোনো দায়িত্ব পালনে আগ্রহ নেই। যার কারণে বাজারে এক লাফে জিনিসের দাম দ্বিগুণ হারে বেড়েই চলেছে।

একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী আবদুস সালাম বলেন, ‘রমজান মাস এলেই শুরু হয় বাজার দর নিয়ে অস্থিরতা। তবে রমজান মাসের ২ মাস বাকি থাকলেও প্রতিটি পণ্যের মূল্য গত বছরের রেকর্ড ছাড়িয়েছে। আগস্ট মাসের ৫ তারিখ রাতে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে দেশের বাজারে প্রতিটি পণ্যের মূল্য অতিরিক্ত বেড়েছে। ফলে আমার মতো সাধারণ মানুষ সংসার চালাতে মহা বিপদে আছি।’

জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ. এইচ. এম. সফিকুজ্জামান বলেন, ‘আমরা যথাযথভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছি দেশের বাজারে প্রতিটি পণ্যের দাম কমিয়ে আনার। আমরাও চাই মানুষ বাজারে গিয়ে স্বস্তি নিয়ে বাজার করুক। বড় বড় ব্যবসায়ীদের প্রতি আমার অনুরোধ রইল, আপনারা আর কোনো ধরনের কারসাজি করবেন না। আপনারা কারসাজি করে ভুল করছেন। এই ভুলের জন্য জনগণ সরকারকে দোষারোপ করছে। সময় থাকতে থাকতে ঠিক হয়ে যান।’

মহাপরিচালক এ. এইচ. এম. সফিকুজ্জামান বলেন, ‘প্রতি বছর রমজান মাসে প্রতিটি পণ্যের দাম বাড়ে। এবার কী বলব? খুবি দুঃখজনক ব্যাপার। রমজান মাসের আরও দুই মাস বাকি রয়েছে এর মধ্যে সবকিছুর দাম আকাশছোঁয়া। আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি রমজান মাসে যেন মানুষ একটু স্বস্তি নিয়ে বাজার করতে পারে।’

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, রমজানের আগে সারা মাসের পণ্য একসঙ্গে কিনবেন না। তাহলে বাজারে প্রভাব পড়বে। হঠাৎ করে বেশি পণ্য কিনলে বাজারে ঘাটতি দেখা দিতে পারে। কিন্তু ধীরে ধীরে প্রয়োজনীয় পণ্য কিনলে কোনো চাপ পড়বে না। পর্যাপ্ত পণ্য আছে রমজানের। গতকাল শনিবার চট্টগ্রামে একটি অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।