
ঢাকা : আগামী শনিবার (৭ মে) বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। পরে এটি আরও ঘনীভূত হওয়ার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর।
এদিকে এই লঘুচাপ ঘনীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবার শঙ্কা প্রকাশ করেছে কানাডার এক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক। যা আগামী ১৩ থেকে ১৬ মে এর মধ্যে বাংলাদেশের উপকূলে আঘাত হানতে পারে বলে শঙ্কার কথা বলেন তিনি।
আবহাওয়া অধিদফতরের এক সতর্কবার্তায় বলা হয়, আগামী ৭ মে দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। যা পরবর্তীতে ঘনীভূত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে অধিদফতরের দীর্ঘ মেয়াদি পূর্বাভাসেও বলা হয়, চলতি মাসে বঙ্গোপসাগরে ১ থেকে ২টি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে একটি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে।
এদিকে কানাডার সাসকাচোয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া ও জলবায়ুবিষয়ক পিএইচডি গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ জানান, আগামী ১৩ থেকে ১৬ মে’র মধ্যে সরাসরি বাংলাদেশের উপকূলে এই ঘূর্ণিঝড় আঘাত করার প্রবল শঙ্কা দেখা যাচ্ছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আবহাওয়া পূর্বাভাস মডেল পর্যালোচনা করে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘আমেরিকা ও ইউরোপিয়ান আবহাওয়া পূর্বাভাস মডেল থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুসারে ৮ থেকে ৯ মে এর মধ্যে দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে আন্দামান ও নিকোবার দ্বীপপুঞ্জের দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে লঘুচাপ সৃষ্টি হয়ে ১০ মে’র মধ্যে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হওয়া এবং ১১ মে পূর্ণাঙ্গ ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা নির্দেশ করছে। ইউরোপিয়ান আবহাওয়া পূর্বাভাস মডেল প্রায় ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ সম্ভাবনার কথা নির্দেশ করছে।’
আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক বলেন, আমরা লঘুচাপের পূর্বাভাস দিয়েছি। গভীরভাবে এটিকে পর্যবেক্ষণ করা হবে। যদি লঘুচাপটি ঘনীভূত হয় তাহলে এটি শুরুতে নিম্নচাপ, এরপর গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়ে, পরে এটি আরও ঘনীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। কিন্তু এখনই নিশ্চিত করে এটা বলা সম্ভব না যে, ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হবে, এটি বাংলাদেশের উপকূলে আঘাত হানবে। সুতরাং এখন আমাদের পর্যবেক্ষণ করে যেতে হবে।