
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ওশেনিয়া মহাদেশের মেলানেশিয়া অঞ্চলে অবস্থিত প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বীপ রাষ্ট্র পাপুয়া নিউগিনির উত্তরাঞ্চলের একটি প্রত্যন্ত গ্রাম বড় ধরনের ভূমিধসে সমতল হয়ে গেছে। এই ঘটনায় ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ এবং এক হাজার ১০০ টিরও বেশি বাড়ি চাপা পড়েছে।
শনিবার (২৫ মে) স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাতে এই খবর জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স।
প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার (২৬ মে) স্থানীয় সময় ভোররাত ৩টায় রাজধানী পোর্ট মোরেসবির প্রায় ৬০০ কিলোমিটার (৩৭০ মাইল) উত্তর-পশ্চিমে এনগা প্রদেশের কাওকালাম গ্রামে ভূমিধসের ঘটনায় শতাধিক প্রাণহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে ।
দেশটির সংসদ সদস্য আইমোস আকমের বরাত দিয়ে পাপুয়া নিউগিনি পোস্ট কুরিয়ার বলেছে, অস্ট্রেলিয়ার উত্তরে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশটিতে ভূমিধসে ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ এবং এক হাজার ১৮২টি বাড়ি চাপা পড়েছে।
এই বিষয়ে জানার জন্য আকমের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রয়টার্স যোগাযোগ করলে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবার পাওয়া যায়নি।
শনিবার (২৫ মে) অস্ট্রেলিয়ার ফরেন অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড ট্রেড ডিপার্টমেন্ট (ডিএফএটি) জানিয়েছে, প্রদেশের মুলিতাকা অঞ্চলে ভূমিধসের কারণে ছয়টিরও বেশি গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ডিএফএটির একজন মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘পোর্ট মোরেসবিতে অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশন ভূমধসে ক্ষয়ক্ষতি এবং হতাহতের পরিমাণ সম্পর্কে আরও মূল্যায়নের জন্য পাপুয়া নিউগিনি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগে রেখেছে।’
অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন শনিবার (২৫ মে) জানিয়েছে, কম জনবসতিপূর্ণ এলাকায় জরুরি উদ্ধারকারী দলগুলো পৌঁছানোর পর সেখান থেকে চারটি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যেখানে মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সম্প্রচারিত গণমাধ্যমে জানিয়েছে, ভূমিধসের কারণে মহাসড়কের প্রবেশপথ বন্ধ হয়ে গেছে। ওই এলাকায় পৌঁছানোর একমাত্র উপায় হচ্ছে হেলিকপ্টার।
একজন গ্রামবাসী নিঙ্গা রোল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা ফুটেজে দেখা গেছে, মানুষ পাথরের উপর দিয়ে উঠে আসার চেষ্টা করছে, গাছ উপড়ে পড়ে আছে এবং ধ্বংসস্তূপে বেঁচে থাকা লোকদের খোঁজ করা হচ্ছে। সেখানে নারীদের কান্না শোনা যায়।
প্রধানমন্ত্রী জেমস মারাপে বলেছেন, দুর্যোগ কর্মকর্তা, প্রতিরক্ষা বাহিনী এবং ওয়ার্কস অ্যান্ড হাইওয়ে বিভাগ ত্রাণ ও পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টায় সহায়তা করছে।