রবিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২

অপবাদের যন্ত্রণা থামল, আইসিইউতে হার মানলেন নাজিম, এতিম ৩ সন্তান

জিন্নাত আয়ুব | প্রকাশিতঃ ৪ নভেম্বর ২০২৫ | ৫:১৬ অপরাহ্ন

সব লড়াই, সব যন্ত্রণা শেষ। যে মানুষটি আপন ভাই-ভাতিজার পৈশাচিক নির্যাতনে আইসিইউর বেডে প্রতিটি নিঃশ্বাসের জন্য যুদ্ধ করছিলেন, চট্টগ্রামের আনোয়ারার সেই নাজিম উদ্দীন আর নেই। তিনি আজ মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

চমেক হাসপাতালের আইসিইউতে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. তারেক নিজামী একুশে পত্রিকাকে নাজিম উদ্দীনের মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন।

নাজিমের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথেই আইসিইউর বাইরের বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। সেখানে অপেক্ষায় থাকা স্ত্রী মুক্তা আহাজারি করতে করতে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। অবুঝ সন্তানকে কোলে নিয়ে মুক্তা হাসপাতালের ফ্লোরে গড়াগড়ি খাচ্ছেন আর বুকফাটা চিৎকারে বলছেন, “আমার তিন সন্তান এতিম হয়ে গেলো… আমি এখন কোথায় যাবো…।” তার এই আর্তনাদে সেখানকার বাতাস ভারী হয়ে ওঠে, উপস্থিত কেউই চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। যে মানুষটি গত এক সপ্তাহ ধরে স্বামীর বিচারের জন্য আর তাকে ফিরে পাওয়ার জন্য প্রতিটি দুয়ারে ছুটেছেন, তার সব আশা আজ নিভে গেলো।

উল্লেখ্য, গত ২৬ অক্টোবর পূর্ব বিরোধের জেরে নাজিম উদ্দীনকে ‘গরু চোর’ অপবাদ দেওয়া হয়। এরপর তার আপন বড় ভাই আহমদ ছফা ও ভাতিজা রিটন তাকে প্রকাশ্য দিবালোকে, জনসমক্ষে দড়ি দিয়ে বেঁধে ‘সাপের মতো’ পিটিয়েছিল। সেই ভয়াবহ মারধরের ভিডিও ফুটেজ একুশে পত্রিকার মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

গুরুতর আহত নাজিম উদ্দীনকে চমেক হাসপাতালের আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। কিন্তু সেই নির্মম প্রহারের যন্ত্রণা থেকে তিনি আর ফিরতে পারলেন না।

এই ঘটনায় আনোয়ারা থানা পুলিশ প্রথমে মামলা নিতে গড়িমসি করলেও, গত ১ নভেম্বর একুশে পত্রিকায় সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশের পর চাপের মুখে পুলিশ মামলা নিতে বাধ্য হয়। ওইদিনই প্রধান অভিযুক্ত ভাই আহমদ ছফাকে গ্রেপ্তার করা হলেও ভাতিজা রিটন এখনো পলাতক।

ভাইয়ের হাতে ভাইয়ের এই নির্মম মৃত্যুর ঘটনায় পুরো আনোয়ারায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নাজিম উদ্দীনের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালের মর্গে নেওয়া হচ্ছিল। তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে আহমদ ছফা ও রিটনের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া হত্যাচেষ্টা মামলাটি এখন পুরোদস্তুর হত্যা মামলায় (ধারা ৩০২) রূপান্তরিত হবে।

## সাপের মতো পিটিয়ে ভাইকে আইসিইউতে পাঠাল ভাই-ভাতিজা, মামলা নিচ্ছে না পুলিশ (ভিডিও)
## একুশে পত্রিকার নিউজে তোলপাড়: নাজিমকে পেটানোর ঘটনায় মামলা, মূল অভিযুক্ত গ্রেপ্তার