শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

চিংড়ির কারখানায় ঝুলে আছে তালা, অথচ কাদা-পানির নিচেই লুকিয়ে আছে বিলিয়ন ডলারের সম্পদ

শরীফুল রুকন | প্রকাশিতঃ ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ | ১২:৫৭ অপরাহ্ন


[সরকার ২০৪১ সালের মধ্যে কৃষি প্রক্রিয়াজাত খাত থেকে ২৫ বিলিয়ন ডলার আয়ের স্বপ্ন দেখছে। কিন্তু রপ্তানির গ্রাফ ১ বিলিয়ন ডলারের ঘরেই আটকে আছে। কেন কৃষকের উৎপাদিত ফসল কারখানার কাঁচামাল হতে পারছে না? কেন আন্তর্জাতিক সনদের অভাবে বিশ্ববাজার থেকে ফিরে আসছে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ট্যাগযুক্ত পণ্য? অলস চিংড়ি কারখানা আর নীল অর্থনীতির অপার সম্ভাবনাই বা কতটুকু কাজে লাগছে? কাঁচামাল সংকট, প্যাকেজিং প্রযুক্তি, ল্যাব সমস্যা, অপ্রচলিত পণ্যের বাজার এবং নীতিমালার জট নিয়ে একুশে পত্রিকার পাঁচ পর্বের ধারাবাহিক প্রতিবেদনের চতুর্থ পর্ব।]

চট্টগ্রামের আগ্রাবাদের একটি অফিসে বসে যখন মৎস্য রপ্তানিকারক দোদুল কুমার দত্ত কথা বলছিলেন, তখন তার চোখেমুখে ছিল মিশ্র অনুভূতি। স্বস্তির খবর হলো, টানা দুই বছরের মন্দার পর বাংলাদেশের হিমায়িত মাছ রপ্তানি খাত আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। গত অর্থবছরে (২০২৪-২৫) এই খাতে আয় বেড়েছে ১৯.৩৩ শতাংশ, টাকার অঙ্কে যা প্রায় ৩৮৯ মিলিয়ন ডলার।

কিন্তু এই আনন্দের সংবাদের পেছনেই লুকিয়ে আছে এক গভীর দীর্ঘশ্বাস। দোদুল কুমার দত্ত বলেন, “সংখ্যায় ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত মিলছে ঠিকই, কিন্তু বাস্তবে আমাদের কারখানাগুলো এখনো ধুঁকছে। দেশে ১১০টি প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা থাকলেও বর্তমানে সক্রিয় আছে মাত্র ৩০-৪০টি। আর পূর্ণ সক্ষমতায় চলছে মাত্র ১০টি।”

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ‘রোড ম্যাপ অন ফুড’-এর তথ্য বলছে, বাংলাদেশে চিংড়ি প্রক্রিয়াকরণ কারখানাগুলোর প্রায় ৮০ শতাংশ উৎপাদন ক্ষমতাই অব্যবহৃত থেকে যায়।

কেন এই অপচয়? সহজ উত্তর—কাঁচামাল বা চিংড়ির অভাব। কিন্তু গল্পের আসল ট্র্যাজেডিটা এখানে নয়। আসল ট্র্যাজেডি হলো, এই কারখানাগুলো যখন ধুঁকছে, তখন আমাদের চোখের সামনেই কাদা আর লোনা পানিতে কিলবিল করছে এমন সব সম্পদ, যা বিশ্ববাজারে ‘ব্ল্যাক গোল্ড’ বা কালো সোনা নামে পরিচিত। প্যাসিফিক সি ফুডস লিমিটেডের কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহেদ এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘বিশ্ববাজারে এখন ৯৫ শতাংশই ভেনামি চিংড়ি, অথচ বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি হওয়া চিংড়ির ৯৫ শতাংশই বাগদা। ভেনামি জাতের চিংড়ি চাষের উৎপাদন খরচ ২৫-৩০ শতাংশ কম। তাই কম উৎপাদনশীল বাগদা চিংড়ি দিয়ে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন।’

আমরা যখন মাত্র ১ বিলিয়ন ডলারের কৃষি পণ্য রপ্তানি নিয়ে হিমশিম খাচ্ছি, তখন এই অপ্রচলিত পণ্যগুলোই হতে পারত আমাদের তুরুপের তাস। কিন্তু নীতিমালার অভাব, পরিবেশ আইনের জুজু, আর সনাতন চিন্তাধারার কারণে আমরা এই বিলিয়ন ডলারের ‘ব্লু ইকোনমি’ বা নীল অর্থনীতির সুফল ঘরে তুলতে পারছি না।

অলস কারখানা বনাম নতুন সুযোগ

আমাদের চিংড়ি কারখানাগুলো এমনভাবে তৈরি, যেখানে সামান্য রদবদল করলেই কাঁকড়া বা অন্যান্য মাছ প্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব। অথচ আমরা তাকিয়ে আছি শুধু বাগদা আর গলদা চিংড়ির দিকে।

রোডম্যাপ অনুযায়ী, বিশ্ববাজারে কাঁকড়া, কুঁচে এবং অন্যান্য অপ্রচলিত জলজ পণ্যের চাহিদা ব্যাপক। বিশেষ করে ‘সফট শেল ক্র্যাব’ বা নরম খোসার কাঁকড়ার চাহিদা ইউরোপ ও আমেরিকায় আকাশচুম্বী। আমাদের উপকূলীয় এলাকার পরিবেশ এই কাঁকড়া চাষের জন্য আদর্শ। কিন্তু আমরা এই সুযোগ কাজে লাগাতে পারছি না। কারণ, আমাদের ফোকাস সব সময় ‘ভাতের সাথে মাছ’—এর মধ্যে সীমাবদ্ধ। এপেক্স ফুডস লিমিটেডের মোহাম্মদ মোমেন বলেন, ‘বিদেশে রপ্তানি করে প্রতি কেজি চিংড়িতে যে পরিমাণ মূল্য পাওয়া যেত, এখন সে মূল্য পাওয়া যায় না। কারণ, ভেনামি চিংড়ি বাজার দখল করে নিয়েছে। অথচ আমাদের কারখানাগুলোকে বহুমুখী পণ্যের জন্য ব্যবহারের সুযোগ থাকলেও নীতিগত সহায়তার অভাবে তা হচ্ছে না।’

শৈবাল: অবহেলার আগাছা নাকি আগামীর ডলার?

কক্সবাজার বা সেন্টমার্টিনের সৈকতে হাঁটলে পায়ের নিচে যা লতা-পাতার মতো বাজে, তা আমরা আবর্জনা ভেবে সরিয়ে দিই। অথচ এই ‘সি-উইড’ বা সামুদ্রিক শৈবাল বিশ্বজুড়ে এখন সুপারফুড। এটি দিয়ে তৈরি হয় দামি প্রসাধনী, ওষুধ, এমনকি আইসক্রিমের স্টেবিলাইজার।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, আমাদের বিশাল সমুদ্রসীমা থাকলেও শৈবাল রপ্তানিতে আমরা শূন্যের কোঠায়। অথচ প্রতিবেশী দেশগুলো শুধু শৈবাল রপ্তানি করেই আয় করছে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা। আমাদের রোডম্যাপে ২০৪১ সালের মধ্যে যে ২৫ বিলিয়ন ডলার আয়ের স্বপ্ন দেখানো হয়েছে, তা পূরণ করতে হলে এই শৈবালের মতো অপ্রচলিত পণ্যগুলোকে মূলধারায় আনতে হবে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সামুদ্রিক বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. সাইদুর রহমান চৌধুরী এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমাদের সমুদ্রসীমায় প্রাকৃতিকভাবে যে পরিমাণ শৈবাল জন্মে, তা আহরণ ও প্রক্রিয়াজাত করার প্রযুক্তি না থাকায় আমরা ব্লু ইকোনমির একটি বড় অংশ থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। গ্রামীণ নারীদের প্রশিক্ষণ দিলে এটি বিশাল আয়ের উৎস হতে পারে।’

সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম এক কর্মশালায় বলেছিলেন, “আমাদের রপ্তানির ৬০ শতাংশই মাত্র ৫টি দেশে যায় এবং পণ্যও মাত্র ৫-৬টি। এই ঘনত্ব বা কনসেন্ট্রেশন আমাদের জন্য বড় ঝুঁকি”। এই ঝুঁকি কমাতে হলে শৈবাল বা কুঁচের মতো পণ্যগুলোকে রপ্তানি ঝুড়িতে তুলতেই হবে।

কুঁচে: ঘৃণার আড়ালে লুকিয়ে থাকা হীরা

বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ সামাজিকভাবে কুঁচে খায় না। কিন্তু চীন, হংকং বা তাইওয়ানে এটি অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং দামি খাবার। আমাদের প্রাকৃতিকভাবেই প্রচুর কুঁচে পাওয়া যায়। আগে এটি প্রাকৃতিকভাবে আহরণ করা হতো, এখন কিছু কিছু জায়গায় চাষ শুরু হয়েছে।

কিন্তু সমস্যা হলো, কুঁচে রপ্তানির জন্য যে বিশেষায়িত প্রসেসিং প্ল্যান্ট বা জীবন্ত মাছ পাঠানোর লজিস্টিকস দরকার, তা আমাদের নেই। সাধারণ কার্টন বা ড্রামে করে এগুলো পাঠানো হয়, ফলে অনেক সময় রাস্তায়ই এগুলো মারা যায়। আর মরা কুঁচের দাম বিশ্ববাজারে নেই বললেই চলে। অথচ একটু সরকারি সহায়তা এবং আধুনিক প্যাকিং প্রযুক্তি ব্যবহার করলে এটি হতে পারত আমাদের দ্বিতীয় প্রধান মৎস্য রপ্তানি পণ্য।

আইন যখন পথের কাঁটা

এই অপ্রচলিত খাতের সবচেয়ে বড় বাধা সম্ভবত আমাদের পরিবেশ আইন এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা। বন বিভাগ কাঁকড়া আহরণে বিধিনিষেধ আরোপ করে সুন্দরবন বা প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষার স্বার্থে। এটা জরুরি। কিন্তু এর বিকল্প হিসেবে যে ‘হ্যাচারি’ বা কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্র গড়ে তোলা দরকার, সেদিকে নজর নেই।

প্রাকৃতিক উৎস থেকে কাঁকড়া পোনা ধরা নিষিদ্ধ, কিন্তু হ্যাচারিতে পোনা তৈরির প্রযুক্তি কৃষকের হাতে নেই। ফলে এক চোর-পুলিশ খেলা চলছে। কৃষক লুকিয়ে পোনা ধরছে, আর রপ্তানিকারকরা লুকিয়ে তা কিনছেন। মৎস্য বিজ্ঞানী ড. মো. নিয়ামুল নাসের বলেন, ‘প্রাকৃতিক উৎস থেকে পোনা ধরা বন্ধ করতে হলে অবশ্যই সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে হ্যাচারি স্থাপন করতে হবে। কৃত্রিম প্রজনন নিশ্চিত না করে শুধু আইন দিয়ে কাঁকড়া শিল্প বাঁচানো যাবে না।’

কৃষি বিপণন আইন, ২০১৮-তে কৃষিপণ্যের সংজ্ঞায় মাছ, কাঁকড়া বা জলজ উদ্ভিদকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে ঠিকই, কিন্তু এদের বিপণন বা রপ্তানির জন্য আলাদা কোনো বিশেষায়িত নীতিমালা বা ইনসেনটিভ নেই। চিংড়ি বা পাটের জন্য আমরা যত হাহাকার করি, কাঁকড়া বা শৈবালের জন্য তার ছিটেফোঁটাও দেখা যায় না।

৮০ শতাংশ অলসতা: জাতীয় অপচয়

চিংড়ি কারখানাগুলো বছরের পর বছর অলস পড়ে থাকাটা একটা জাতীয় অপরাধের শামিল। ব্যাংকের হাজার হাজার কোটি টাকা এখানে লগ্নি করা আছে। মেশিনারিজগুলো জং ধরে নষ্ট হচ্ছে। অথচ এই কারখানাগুলোকেই ‘মাল্টি-পারপাস’ বা বহুবিধ ব্যবহার উপযোগী করা যেত। বাংলাদেশ ফ্রোজেন এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফএফইএ) সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আশরাফ হোসাইন বলেন, ‘মৎস্যজাত পণ্য প্রক্রিয়াকরণ কারখানাগুলো কাঁচামালের অভাবে বন্ধ হয়ে গেছে, শ্রমিকরা বেকার হয়ে গেছেন। ব্যাংকের সুদ দিতে না পেরে অনেকে কারখানা বিক্রি করে দিয়েছেন। কারখানাগুলো সচল রাখতে বহুমুখী পণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের অনুমতি ও সহায়তা জরুরি।’

রোডম্যাপে বলা হয়েছে, এই অব্যবহৃত সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে অপ্রচলিত পণ্য প্রক্রিয়াজাত করা হলে নতুন বিনিয়োগ ছাড়াই রপ্তানি আয় বাড়ানো সম্ভব। কিন্তু এর জন্য দরকার পলিসি শিফট বা নীতিগত পরিবর্তন। দরকার এমন একটা ব্যবস্থা, যেখানে একজন চিংড়ি রপ্তানিকারক সহজেই কাঁকড়া বা শৈবাল রপ্তানি করতে পারেন, আলাদা করে দশটা লাইসেন্স নিতে হয় না।

বাপার সাধারণ সম্পাদক ইকতাদুল হক যথার্থই বলেছেন, “গ্যাস-বিদ্যুতের দাম আর সনদের হয়রানি উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে”। একটি অলস কারখানার জন্যও মালিককে ফিক্সড বিদ্যুৎ বিল বা মেইনটেইনেন্স খরচ গুনতে হয়। যদি সারা বছর অন্য পণ্য দিয়ে কারখানা চালু রাখা যেত, তবে ইউনিট প্রতি উৎপাদন খরচ কমে আসত, যা আমাদের বিশ্ববাজারে টিকে থাকতে সাহায্য করত।

নীল অর্থনীতির হাতছানি

আমরা সমুদ্র জয় করেছি প্রায় এক দশক হতে চলল। কিন্তু সমুদ্রের অর্থনীতি বা ‘ব্লু ইকোনমি’ বলতে আমরা এখনো শুধু মাছ ধরা আর গ্যাস উত্তোলনকেই বুঝি। অথচ টুনা মাছ, যা বিশ্ববাণিজ্যের অন্যতম বড় পণ্য, তা আমাদের সমুদ্রসীমায় থাকলেও আমরা ধরতে পারি না প্রযুক্তির অভাবে। আমাদের জেলেরা ছোট নৌকায় উপকূলের কাছে মাছ ধরে, আর গভীর সমুদ্রের টুনা ধরে নিয়ে যায় অন্য দেশের ট্রলার।

এই টুনা মাছ যদি আমাদের চিংড়ি কারখানায় ক্যানিং বা টিনজাত করা যেত, তবে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ট্যাগ লাগানো টুনা ফিশ ইউরোপের বাজারে ঝড় তুলতে পারত। এটি কোনো রূপকথা নয়, ভিয়েতনাম বা থাইল্যান্ড ঠিক এই কাজটিই করছে।

উত্তরণের পথ: গতানুগতিকতার বাইরে

বিশেষজ্ঞ ও অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলছেন, মাত্র ১০-১২টি পণ্যের ওপর নির্ভরশীল রপ্তানি ঝুড়ি আমাদের অর্থনীতির জন্য বড় ধরণের ঝুঁকি তৈরি করছে। এই বৃত্ত ভাঙতে হলে সাহস করে অপ্রচলিত পথে হাঁটার বিকল্প নেই। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সামুদ্রিক বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. সাইদুর রহমান চৌধুরীর মতে, সুন্দরবন বা প্রাকৃতিক উৎসের ওপর চাপ কমাতে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে অবিলম্বে কাঁকড়া ও কুঁচের হ্যাচারি স্থাপন করা জরুরি।

একই সঙ্গে বন ও পরিবেশ আইনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে বাণিজ্যিক চাষাবাদের নীতিমালা সহজ করার তাগিদ দেন তাঁরা। এছাড়া উপকূলীয় নারীদের শৈবাল চাষ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ দিলে তা গ্রামীণ নারীদের কর্মসংস্থানের বিশাল ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে।

সর্বোপরি, বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের কাঁকড়া বা শৈবালকে ‘প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত’ ও ‘কেমিক্যালমুক্ত’ পণ্য হিসেবে ব্র্যান্ডিং করার পরামর্শ দিয়েছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘২০৪১ সালের উন্নত অর্থনীতির স্বপ্ন শুধু তৈরি পোশাক বা প্রচলিত কৃষিপণ্য দিয়ে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। এ জন্য অপ্রচলিত খাতের দিকে নজর দিতে হবে।’ তিনি মনে করেন, চিংড়ি কারখানাগুলোর অব্যবহৃত সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে কাঁকড়া, কুঁচে বা শৈবালের মতো উচ্চমূল্যের পণ্য রপ্তানির সুযোগ রয়েছে।

অন্যদিকে বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফএফইএ) জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি তারিকুল ইসলাম জহির বলেন, ‘সমুদ্রের কাদা-পানির নিচে লুকিয়ে থাকা এই নীল অর্থনীতির সম্পদ কাজে লাগাতে পারলে অলস কারখানাগুলো আবার সচল হবে। নতুবা বিপুল সম্ভাবনা থাকার পরও আমরা পিছিয়েই থাকব।’

শেষ পর্ব: ২৫ বিলিয়ন ডলারের স্বপ্ন ও লাল ফিতার দৌরাত্ম্য: নীতিমালার জট খুলবে কবে?