
চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সরওয়ার আলমগীরের বিরুদ্ধে প্রায় ৪০০ কোটি টাকার ঋণখেলাপি থাকার তথ্য গোপনের অভিযোগ উঠেছে। হলফনামায় ঋণের তথ্য গোপন করার অভিযোগ এনে তার মনোনয়নপত্র বাতিলের দাবিতে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল করেছেন একই আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যক্ষ মো. নুরুল আমিন।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশনে এই আপিল আবেদন জমা দেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অধ্যক্ষ নুরুল আমিনের আইনজীবী ইসমাইল গণি।
আপিল আবেদনে বলা হয়েছে, সরওয়ার আলমগীর তার মনোনয়নপত্র ও সংযুক্ত হলফনামায় নিজের আর্থিক দায়, বিশেষ করে ব্যাংকঋণ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ইচ্ছাকৃতভাবে গোপন করেছেন। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী ঋণখেলাপি হলে কিংবা হলফনামায় মিথ্যা বা অসম্পূর্ণ তথ্য দিলে তার মনোনয়নপত্র বাতিলযোগ্য।
অ্যাডভোকেট ইসমাইল গণি বলেন, “আমাদের কাছে তথ্য আছে, সরওয়ার আলমগীর সাহেবের প্রায় ৪০০ কোটি টাকার ঋণখেলাপি রয়েছে। কিন্তু তিনি হলফনামায় সামান্য কিছু ঋণ দেখিয়েছেন এবং অনেক তথ্য লুকিয়ে গেছেন। এই কারণে তার প্রার্থিতা বাতিলের জন্য আমরা কমিশনে আবেদন করেছি।”
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সরওয়ার আলমগীরের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ‘এনএফজেড টেরি টেক্সটাইল’ স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের আগ্রাবাদ শাখা থেকে প্রায় ২০১ কোটি টাকা ঋণ নেয়। এই টাকা তিনি পরিশোধ করেননি। খেলাপি ঋণের বিপরীতে তিনি উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে রেখেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অধ্যক্ষ মো. নুরুল আমিন তার অভিযোগে বলেন, “নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও সুষ্ঠুতা নিশ্চিত করতে হলে আইনের ব্যত্যয় ঘটানো কোনো প্রার্থীকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া যায় না। নির্বাচন কমিশনের উচিত অভিযোগগুলো যথাযথভাবে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।”
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, কোনো ঋণখেলাপি ব্যক্তি নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন না। সংশোধিত আরপিওতে বলা হয়েছে, সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পরও যদি কারও ঋণখেলাপি হওয়া বা মিথ্যা তথ্য দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে ইসি তার সংসদ সদস্য পদ বাতিল করতে পারবে।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, আপিলটি গ্রহণ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উভয় পক্ষের বক্তব্য ও দাখিল করা কাগজপত্র পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকেও তথ্য যাচাই করা হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি প্রার্থী সরওয়ার আলমগীর একুশে পত্রিকাকে বলেন, “আমার ৪০০ কোটি টাকার লোন নেই, এইটুকু বলতে পারি। আর আমি ঋণখেলাপিও না।”
জামায়াত প্রার্থীর কাছে তার ঋণের হিসাব থাকার কথা নয় দাবি করে তিনি পাল্টা প্রশ্ন রাখেন, “জামায়াতের প্রার্থীর কাছে কি আমার লোনের হিসাব আছে? আমার লোনের হিসাব তো আমার কাছে আর আমার ব্যাংকের কাছে। ৪০০ কোটি টাকার ঋণ কোথায় আছে, সেটা দেখান।”
ঋণ থাকলেও সেটি পুনঃতফসিল (শিডিউল) করা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নে বিরক্তি প্রকাশ করেন বিএনপি নেতা সরওয়ার। তিনি বলেন, “কথা অন্যদিকে যাবে। আমি বললাম—নাই। না এবং না।”
বিগত সরকারের সময় ব্যবসায়িক প্রতিবন্ধকতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমাদের যারা কাজ করে, ১৭ বছর আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য করতে দেয় নাই। মিল-কারখানাগুলো সব জং ধরে গেছে, শেষ করে দিছে। এলসি খুলতে পারি নাই, ব্যবসা করতে দেয় নাই। ব্যবসার নামে লুটপাট করে টাকা পাচার করেছে। আর যারা অরিজিনাল ব্যবসায়ী, তাদের ভিন্নমত বিধায় তিলে তিলে মেরেছে।”
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর অভিযোগের বিষয়ে ইঙ্গিত করে সরওয়ার আলমগীর বলেন, “জামায়াতিরা ৭১ সালে যে কাজ করছে, এখন মনে করছে আস্ফালন দেখছে। ওদের অস্তিত্ব বাংলাদেশের মানুষ ব্যালটের মাধ্যমে বুঝিয়ে দেবে।”