
সীতাকুণ্ড প্রতিনধি : চট্টগ্রাম উত্তর বনবিভাগের কুুমিরা বিট অফিসে হামলা চালিয়ে বনআইনে আটক দুই সহযোগীকে ছিনিয়ে নিয়ে গেছে বনদস্যুরা।
এসময় সংশ্লিষ্ট বিট কর্মকর্তা, বনরক্ষীকে এলোপাথাড়ি মারধর, সরকারি অফিসের মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেয়া ও কাগজপত্র তছনছ করেছে বনদস্যুরা।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৮টার দিকে সশস্ত্র হামলা করে দুই সহযোগীকে ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয়দের সহযোগিতায় হামলাকারী বনদস্যু দলের সদস্য মোহাম্মদ মুছা (পিতা : মোহাম্মদ হাসেম), কোর্টপাড়া, বড় কুমিরা, সীতাকুণ্ডকে আটক করে গতকাল রাতেই থানায় সোপর্দ করা হয়।
কুমিরা বিট কর্মকর্তা বিভাষ কুমার মালাকার সরকারি কাজে বাধাদান, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মারধর, লুটপাট, ভাংচুরের দায়ে জ্ঞাত ও অজ্ঞাত ১৫ জনকে আসামি করে সীতাকুণ্ড থানায় এব্যাপারে মামলা করেছেন। বনদস্যু মুছাকে বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশেষ ব্যবস্থায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও বনবিভাগ সূত্র জানায়, বুধবার ১২টার দিকে বাঁশবাড়িয়া মৌজায় ১৯৯৪ সালে সৃজিত বাগান থেকে বনের গাছ কেটে উজার করে জুমচাষ করার সংবাদ পেয়ে দুুইজন বনদস্যুকে আটক করেন বনবিভাগের লোকজন। এসময় তাদের কাছ থেকে দা, শাবল, খুন্তি, ঝুড়িসহ গাছকাটার সামগ্রী উদ্ধার করা হয়।
আটকরা হলেন-থুই সাচিং মারমা (২৩), পিতা-সাবাই মারমা, বড় ডলুপাড়া, কলমপতি, থানা-কাউখালী, রাঙ্গামাটি এবং বাবুল দেবনাথ (৪৮) পিতা-অশ্রু কুমার দেবনাথ, ছোট কমলদহ, মিরসরাই, চট্টগ্রাম।
এদিকে করোনা-দুর্যোগের কারণে আটক দুইজনকে থানায় সোপর্দ করতে না পারায় রাতে কুমিরা বিট অফিসেই রাখার সিদ্ধান্ত নেয় সংশ্লিষ্টরা।
আটকরা কুমিরা বিট অফিসেই আছে এমন খবর পেয়ে ১২-১৩ জনের বনদস্যু দল বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে অতর্কিতে বিট অফিস আক্রমণ করে। এসময় বনদস্যুরা সরকারি সম্পদের ক্ষতিসাধনের পাশাপাশি বিটকর্মকর্তা বিভাষ কুমার মালাকার, বনরক্ষী এইচএম নুরুল ইসলামকে এলোপাথাড়ি পিটিয়ে তাদের দুই সহযোগীকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
এসময় স্থানীয় লোকজন প্রতিরোধে এগিয়ে এলে বনদস্যুরা আটক হওয়া তাদের দুই সহযোগীকে ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত সটকে পড়ে। এসময় স্থানীয়দের সহায়তায় মুছা নামের ওই বনদস্যুকে আটক করতে সক্ষম হন বনকর্মীরা।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুর সোয়া ২টার দিকে এ রিপোর্ট লেখার সময় বনদস্যুদের হামলায় আহত বিট কর্মকর্তা বিভাষ কুমার মালাকার ও বনরক্ষী নুরুল ইসলাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।
বিভাষ কুমার মালাকার একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘সরকারি বনসম্পদ রক্ষায় এই করোনা দুর্যোগেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমাদের কাজ করতে হচ্ছে। দুই বনদস্যুকে আটকের পর থানা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করতে না পারায় বাধ্য হয়েই বিট কার্যালয়ে রেখেছিলাম। কিন্তু বনদস্যুরা অতর্কিতে হামলা চালিয়ে তাদের ছিনিয়ে নিয়ে গেছে। আমাদের এলোপাথাড়ি মেরেছে, সরকারি সম্পদের ক্ষতি করেছে।’
চট্টগ্রাম (দক্ষিণ) বিভাগীয় বন কর্মকর্তা বখতিয়ার নূর সিদ্দিকী একুশে পত্রিকাকে বলেন, সরকারের সবকিছু বন্ধ থাকলেও বন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কোনো বন্ধ বা ছুটি নেই। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মতো সরকারের বনসম্পদ রক্ষায় আমাদের ২৪ ঘণ্টাই ডিউটি করতে হয়। করোনা-ঝুঁকিতেও সরকারি বনসম্পদ উজার করার সংবাদ পেয়ে কুমিরা বিট অফিস থেকে ১০ কিলোমিটার অদূরে বাঁশবাড়িয়ো মৌজায় আমাদের বনকর্মীরা অভিযান চালিয়ে দুইজনকে আটক করে।
গতকালই দুইজনকে থানায় হস্তান্তর করার কথা ছিল। কিন্তু থানা কর্তৃপক্ষ করোনা-সংকটের কথা বলে তাদের গ্রহণ করতে রাজি হয়নি। ফলে অবস্থা যা হবার হয়েছে। বনদস্যুরা হামলা চালিয়ে তাদের সহযোগীদের ছিনিয়ে নিয়েছে তা শুধু নয়, সরকারি সম্পদদের ক্ষতি ও বনবিভাগের দুই কর্মীকে আহত করেছে। এ ব্যাপারে আটক একজনকে থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে হামলাকারী ৬-৭ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। বনদস্যুদের রুখে দিয়ে যে কোনো পরিস্থিতিতে সরকারের বনসম্পদ রক্ষায় আমরা বদ্ধপিরকর।- বলেন ডিএফও বখতিয়ার নূর সিদ্দিকী।
সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ হোসেন মোল্লাকে বারবার ফোন করেও এ ব্যাপারে বক্তব্য পাওয়া যায়নি।