
পিকলু দত্ত, টেকনাফ : টেকনাফে পঙ্গপাল সদৃশ পোকা দেখতে এসেছেন জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট তুরস্কের নাগরিক আহমেদ ইকজায়েজসহ তিন প্রতিনিধি দল।
শুক্রবার দুপুর ১২ টার দিকে টেকনাফের লম্বরী এলাকায় জনৈক হেলাল সিকদারের বাগান, যেখানে আক্রমণ করেছিল পঙ্গপাল সদৃশ পোকার দল, সেই স্থানটি পরিদর্শন করেন তারা।
এসময় কক্সবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক আবুল কাশেম এবং টেকনাফ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শন শেষে আহমেদ ইকজায়েজ স্থানীয়দের জানান, এটি পঙ্গপালের কোনো উপজাত অথবা ঘাসফড়িংয়ের নতুন কোনো জাত হতে পারে। এটি নিশ্চিত হওয়ার জন্য মৃত পোকা নিয়ে যান তিনি। তবে এটি ফসলের কোনো ক্ষতি করবে না। তাই আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
কক্সবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিচালক আবুল কাশেম একুশে পত্রিকাকে জানান, হেলাল সিকদারের বাগানে হানা দেওয়া পোকার দলটি স্প্রে করার পর বিলীন হয়ে গেছে। ঝোপঝাড়ে মৃত কয়েকটি পোকার অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়। জাতিসংঘের প্রোগ্রাম স্পেশালিস্টকে সংরক্ষণ করা জীবিত পোকাও দেখানো হযেছে। তিনি বললেন, এটি ফসলের জন্য ক্ষতিকারক নয়। এটির বংশবিস্তারেরও সুযোগ নেই।
তবে অপরিচিত এই পোকাটির সঠিক পরিচয় নিশ্চিত করতে আগামিকাল (২ মে) শনিবার ঢাকা থেকে ৪জন কীটতত্ত্ববিদ ও দুইজন বিশেষজ্ঞ আসছেন। তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও পর্য়বেক্ষণ শেষে নিশ্চিতভাবে জানাতে পারবেন পোকাগুলোর প্রকৃত পরিচয়।- বলেন আবুল কাশেম।
এছাড়া শুক্রবার দুপুরে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের ফেসবুক পেইজ থেকে এ ব্যাপারে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলা হয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞগণ এটিকে প্রাথমিকভাবে ফসলের জন্য ক্ষতিকর নয় বলে মত দিয়েছেন। উপরন্তু বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের একটি উচ্চ পর্যায়ের বিজ্ঞানী দল সরেজমিন যাচাই করার জন্য ঢাকা থেকে টেকনাফের উদ্দ্যেশ্যে রওয়ানা হয়েছেন। কৃষি মন্ত্রণালয় বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে।
প্রসঙ্গত, গত ১৮ এপ্রিল রাতে টেকনাফের লম্বরীতে বসতভিটার নিজ বাগানে পঙ্গপাল সদৃশ পোকার প্রথম দেখা পান স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতা সোহেল সিকদার।
এরপর দেখা গেলো, পঙ্গপাল সদৃশ্ ঝাঁকে ঝাঁকে পোকা একটি গাছের সব পাতা খেয়ে ফেললো। পাতাবিহীন অনেকটা নগ্ন শরীরের মতো দাঁড়িয়ে আছে বিশাল আম গাছ। এ নিযে রীতিমত এলাকায় হইচই – করোনা ভাইরাসের মধ্যে পঙ্গপাল।
উপজেলা উপ কৃষি সহকারী কর্মকর্তা শফিউল আলম পোকাগুলোর পরিচয় শনাক্ত করতে না পেরে জেলা কৃষি কর্মর্কতার দ্বারস্থ হন। কিন্তু ততক্ষণে পোকার পরিমাণ কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়ে আরো দুটি গাছের সমস্ত পাতা খেয়ে ফেলে।
এ অবস্থায় উপ সহকারী কৃষি অফিসার শফিউল আলম কয়েকজন সাথে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। পঙ্গপাল সৃদশ পোকাগুলোর যাতে বংশবিস্তার না ঘটে সেজন্য জরুরি ভিত্তিতে বিষ প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নেন।
বিষ প্রয়োগে অল্প মারা গেলেও পোকার দল ভিটে ছেড়ে অন্য দুটি গাছে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আরও দুটি নতুন বিষ এনে নিজেই স্প্রে করা শুরু করেন। দেখা গেলো তাতেই কাজ হচ্ছে। মরছে পোকা।
উপরে-নিচে সব জায়গায় বিষ প্রয়োগের ফলে হাজার হাজার পোকা মারা গেলো। সব পোকার আপাত বিনাশের পর বাগান মালিককে পরবর্তী করণীয় ও উপস্থিত এলাকাবাসীকে এ ধরনের পোকা দেখা দিলে কী করতে হবে সে ব্যাপারে ধারণা দেন উপজেলা কৃষি উপ সহকারী শফিউল আলম।
এ পরিস্থিতিতে শুক্রবার জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞগণ পঙ্গপাল সদৃশ পোকা আক্রমণের স্থান পরিদর্শন করে সবাইকে আশার বাণী শোনালেন।