সোমবার, ২৫ মে ২০২০, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

‘মে পর্যন্ত লকডাউন থাকলে বাংলাদেশের ক্ষতি ২ লাখ ১৮ কোটি টাকা’

প্রকাশিতঃ রবিবার, মে ১০, ২০২০, ৮:১৮ অপরাহ্ণ


ঢাকা : বাংলাদেশে চলতি মে মাস পুরোটাই লকডাউন কার্যকর থাকলে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দুই লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। এমনটি আশঙ্কা করা হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের সাম্প্রতিক এক গবেষণা প্রতিবেদনে।

বাংলাদেশের অর্থনীতির তিনটি বড় খাত- কৃষি, শিল্প ও সেবা খাত মিলিয়ে ক্ষতির অনুমিত হিসাব দেওয়া হয়েছে সমীক্ষা প্রতিবেদনে। সে হিসাবে লকডাউনের কারণে প্রতিদিন কৃষিতে ক্ষতি হচ্ছে ২০০ কোটি টাকা।

‘অর্থনীতিতে করোনার প্রভাব’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়, শস্য উৎপাদন, প্রাণিসম্পদ ও মৎস্য সম্পদের উৎপাদন না কমলেও দেশি-বিদেশি অর্থনীতি অবরুদ্ধ থাকায় এসব উপখাতের উৎপাদিত দ্রব্যের মূল্যের ওপর নিম্নমুখী প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। এর ফলে অর্থনীতিতে প্রতিদিন প্রায় ২০০ কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে। আর শিল্প খাতে দিনে ক্ষতি হচ্ছে এক হাজার ১৩১ কোটি টাকা। উৎপাদন ও নির্মাণ খাতে ক্ষতির মাত্রা প্রকট আকার ধারণ করেছে। এ খাতে প্রতিদিনের অনুমিত ক্ষতির পরিমাণ প্রায় এক হাজার ১৩১ কোটি টাকা। সেবা খাতে দিনে ২০০০ কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে।

গবেষণা কার্যক্রমের সাথে সংশ্লিষ্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সৈয়দ আবদুল হামিদ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, গত অর্থ বছরের (২০১৮-২০১৯) জিডিপির ভিত্তিতে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে স্বল্পমেয়াদি বা চলতি ক্ষতির পরিমাণ কত হবে তা হিসাব করার একটা প্রয়াস নেওয়া হয়েছে তাদের গবেষণায়।

তিনি মনে করেন, লকডাউন অবস্থার মেয়াদ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সম্ভাব্য ক্ষতির পরিমাণ বাড়তে পারে। মে মাস শেষে অনুমিত ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াবে দুই লাখ ১৭ হাজার ৮০০ কোটি টাকা, যা গত অর্থবছরের মোট দেশীয় উৎপাদনের প্রায় ৯ শতাংশ।

এ অবস্থায় গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা করতে ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রম পরিচালনাকারী এনজিওদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঋণ কার্যক্রম পুনরায় চালু করার অনুমতি দিয়েছে সরকার। এ প্রসঙ্গে ক্রেডিট অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট ফোরামের চেয়ারপার্সন মোরশেদ আলম বলেছেন, এনজিওদের এ কার্যক্রম পুনরায় চালু হলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে জীবন ফিরে আসবে।

অনুরূপ মন্তব্য করে ক্ষুদ্র ঋণদানকারী এনজিও সেতু’র নির্বাহী পরিচালক এম এ কাদের জানান, তাদের কর্মসূচি চালু হলে ঋণগৃহীতা সদস্যদের হাতে টাকা আসবে, দরিদ্র উপকারভোগীদের নানামুখী কাজের মাধ্যমে উপার্জন করার সূযোগ বাড়বে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে টাকাপয়সার লেনদেন বাড়বে। ফলে ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর চাপ কমবে।

উল্লেখ্য, এনজিওদের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রমের আওতায় বছরে প্রায় দেড় লক্ষ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করা হয়ে থাকে। এ কার্যক্রমের সাথে যুক্ত রয়েছেন তিন লক্ষ এনজিও কর্মী এবং সাড়ে তিন কোটি উপকারভোগী সদস্য।