শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

সেই রকি বড়ুয়ার বিরুদ্ধে এবার ধর্ষণ চেষ্টা ও চাঁদাবাজির মামলা

| প্রকাশিতঃ ১৪ মে ২০২০ | ১১:৫৯ অপরাহ্ন


চট্টগ্রাম : ধর্মব্যবসায়ী, ভণ্ড, প্রতারক ও সাম্প্রদায়িক উসকানি সৃষ্টিকারী রকি বড়ুয়ার বিরুদ্ধে ধর্ষণের চেষ্টা ও চাঁদাবাজির অভিযোগে পৃথক দুটি মামলা হয়েছে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া থানায়।

লোহাগাড়া থানার ওসি জাকের হোসাইন মাহমুদ একুশে পত্রিকাকে জানান, আজ বৃহস্পতিবার চরম্বা এলাকার ভুক্তভোগী একজন নারী রকি বড়ুয়ার বিরুদ্ধে ধর্ষণ-চেষ্টার অভিযোগ এনে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করেছেন।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, রকি বড়ুয়া ওই নারীকে দীর্ঘদিন ধরে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন। অস্ত্রধারী ও প্রভাবশালী হওয়ায় রকির বিরুদ্ধে তিনি প্রতিবাদ করার সাহস পাননি। গত ২২ এপ্রিল রাত ৯টার দিকে ভুক্তভোগীর বাড়িতে গিয়ে কাপড় খুলে জোরপূর্বক রকি বড়ুয়া ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এ সময় ভুক্তভোগীর চিৎকারে তার বিধবা মা এগিয়ে আসলে রকি বড়ুয়া পিস্তল বের করে সবাইকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে চলে যায়।

এদিকে গতকাল বুধবার রকি বড়ুয়া ও তার সহযোগি আরও ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে লোহাগাড়া থানায় চাঁদাবাজি ও হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে মামলা করেছেন সৈয়দ হোসেন নামের একজন বালু ব্যবসায়ী। এজাহারে তিনি উল্লেখ করেছেন, আসামিরা এই বলে হুমকি দিয়েছেন যে মাটির ব্যবসা করতে চাইলে প্রতি মাসে তাদেরকে ১ লাখ টাকা করে দিতে হবে। গত ৫ এপ্রিল চরম্বা নয়াবাজারে বাদীর অফিসে আসামিরা এসে ১ লাখ টাকা দাবি করেন। সে সময় পিস্তল ও বন্দুক দেখিয়ে হত্যার হুমকি দিলে আসামিদেরকে ৫০ হাজার টাকা প্রদান করেন বাদী।

মামলায় লোহাগাড়ার চরম্বা বড়ুয়া পাড়ার জয়সেন বড়ুয়ার ছেলে রকি বড়ুয়ার (৩৭) পাশাপাশি একই এলাকায় তার সহযোগি শফিউল আজম শহিদ (৪৫), কামাল উদ্দিন প্রকাশ কামাল ডাকাত (৩৬), বিপ্লব দাশ টিসু (৪৫), নারায়ণ মল্লিক (৪০), কামাল উদ্দিন (৪০), আজিজুর রহমান (৫০), লিট ধুপি (৩২) জাহাঙ্গীর আলম (৩০), মো. শহিদ (২৮), মো. সেলিম (৪০), সাদ্দাম হোসেন (৩০), বশির আহম্মদ (৪৫), মিন্টু বড়ুয়া (২৬) ও রবিউল ইসলাম প্রকাশ রুবেলকে (২৮) আসামি করা হয়েছে।

লোহাগাড়া থানার ওসি জাকের হোসাইন মাহমুদ একুশে পত্রিকাকে জানান, চাঁদা দাবি, চাঁদা আদায় ও মৃত্যুর ভয় দেখানোর অভিযোগে দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪৪৮, ৩৮৫, ৩৮৬, ৫০৬ ধারায় আসামিদের বিরুদ্ধে মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে।

এর আগে গত ৭ মে রাতে ‘সাঈদীর মুক্তির জন্য বৈঠক, সরকারকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেওয়া কে এই রকি বড়ুয়া? শিরোনামে একুশে পত্রিকায় অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশের পর বিভিন্ন মহলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। লোহাগাড়া-সাতকানিয়ার মানুষ ভয়ঙ্কর ধর্মব্যবসায়ী, ভণ্ড, প্রতারক ও সাম্প্রদায়িক উসকানি সৃষ্টিকারী রকি বড়ুয়ার গ্রেপ্তার ও দৃ্ষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ফুঁসে উঠে। স্থানীয় আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন মানববন্ধন, বিক্ষোভ সমাবেশ ও সংবাদ সম্মেলন করে তার গ্রেপ্তার দাবিতে।

এরপর গত ১১ মে রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রকি বড়ুয়াকে ধরতে নগরের মোহাম্মদপুর এলাকার নুর ম্যানশন ভবনের একটি বাসা ঘিরে ফেলে র‌্যাবের একটি দল। এসময় রকি বড়ুয়া তিন তলার কার্নিশ থেকে লাফ দিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। কিন্তু র‌্যাবের চৌকস দল রকি বড়ুয়া ও তার ৫ সহযোগীকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। পরে লালখান বাজার এলাকায় মেরিন কে এইচ টাওয়ারে রকি বড়ুয়ার বাসায় অভিযান চালিয়ে রকি বড়ুয়ার কথিত রক্ষিতা এক নারীকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

গ্রেপ্তার হওয়া রকি বড়ুয়ার সহযোগিরা হলেন সফিউল আজম শহীদ (৪০), ছগির আহমদ (৪০), রুবেল বড়ুয়া (২৭), সাইফুল ইসলাম প্রকাশ নয়ন (৩৮), নারায়ন মল্লিক (৩৪) ও শাহিনা ইসলাম প্রিয়া ওরফে আমেনা (২৪)।

অভিযানে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, ৬ রাউন্ড গুলি, ৩৫ লাখ টাকার টাকার এফডিআরের কাগজপত্র, ৬ বোতল বিদেশি মদ, বিদেশি সিগারেট, ১৩টি স্বাক্ষরযুক্ত ১০০ টাকা মূল্যের খালি স্ট্যাম্পসহ তার তদবির বাণিজ্য ও প্রতারণার কাগজপত্র জব্দ করে র‌্যাব।

এদিকে তিন তলা থেকে লাফিয়ে পালাতে গিয়ে দুই পা ভেঙে ফেলা রকি বড়ুয়া এখন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তার ৬ সহযোগিকে গতকাল বুধবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। একইদিন পাঁচলাইশ থানায় রকি বড়ুয়া ও তার সহযোগিদের বিরুদ্ধে চারটি মামলা করে র‌্যাব।