শনিবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২০, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

গ্রামীণ জনপদে কাটা মুরগীর কদর

প্রকাশিতঃ শনিবার, অক্টোবর ৩১, ২০২০, ২:৫২ অপরাহ্ণ


কাপ্তাই থেকে ফিরে : শনিবার সকালে কাপ্তাই জেটিঘাট বাজার থেকে নৌবাহিনীর কর্মকর্তা অনিমেষ বড়ুয়া কিনে নিলেন দুই কেজি কাটা মুরগীর মাংস। গিলা-কলিজার সাথে সদ্যকাটা মুরগীর একগুচ্ছ ডিমও কিনেন তিনি।

শুধু অনিমেষ নন, পাহাড়ি-বাঙালিরা দলে দলে কিনছেন তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী মুরগীর কাটা মাংস। জেটিঘাঁটের এই বাজার বসে প্রতি শনিবার, যেটি চাকমাবাজার হিসেবে স্থানীয়দের কাছে পরিচিতি।

বড় সাইজের (৩ থেকে ৬ কেজি) দীর্ঘদিন ডিম দিয়েছে এমন লাল-সাদা মুরগী কেটে মাংস অথবা আস্ত ময়লাছাড়ানো মুরগী বিক্রি করা হয় এই বাজারে। এছাড়া হরেক পদের জুম ও গ্রামীণ সবজি পাওয়া যায় বলে চাকমা বাজারের বিশেষ কদর রয়েছে স্থানীয়দের কাছে।

স্থানীয়রা জানান, এসব মুরগী বা কাটা মুরগীর বেশিরভাগ ক্রেতা ধর্মপ্রাণ বৌদ্ধরা। কারণ বৌদ্ধ ধর্মে প্রাণীহত্যা সমর্থন করে না। সে কারণে মুরগীর মাংস কিনতে শনিবারের অপেক্ষায় থাকেন আশপাশের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা। এছাড়া জাতি-ধর্ম, পাহাড়ি-বাঙালি নির্বিশেষে কিনছেন এই মাংস। বিশেষ করে মিতব্যয়ী, কৃচ্ছতাসাধনে অভ্যস্তদের কাছে এই মাংসের চাহিদা বেশি। প্রয়োজন অনুযায়ী পিচ করা মাংস কিনছেন তারা।

জানা যায়, চাহিদা থাকায় বড়ইছড়ি বাজার, বিলাইছড়ি বাজার, পারুয়া বাজার, তাইনক্ষণ বাজার, চিৎমরম বাজার, বাঙালহালিয়া, অলাদ বাজার, কাউখালি বাজার, রাঙ্গুনিয়ার রানীরহাট বাজার, রাজারহাট বাজারসহ পার্বত্য এলাকার বিভিন্ন সাপ্তাহিক বাজারে এমন পিচ করা তৈরি মাংস মিলছে।

এধরনের মুরগীর মাংস বিক্রির সাথে ৮ বছর ধরে জড়িত রাঙামাটির ঘাগড়া এলাকার বাসিন্দা নয়ন চাকমা ও বাবলু। প্রতিদিনই পার্বত্য একাকায় কোনো কোনো বাজার থাকেই। প্রতিটি বাজারেই জবাই করে ময়লাছাড়ানো বড় বড় মুরগীর পসরা সাজিয়ে বসেন তারা। যথারীতি শনিবার মুরগী নিয়ে এসেছিলেন কাপ্তাই চাকমা বাজারে।

এসময় একুশে পত্রিকাকে নয়ন চাকমা জানান, সীতাকুণ্ড, মিরসরাই, রিয়াজউদ্দিন বাজার, নোয়াখালী থেকে এসব মুরগী সংগ্রহ করেন তারা। একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ডিম দেওয়ার পর এসব মুরগী (স্থানীয়দের কাছে কক মুরগী হিসেবে পরিচিত) বিক্রি করে দেন খামারিরা। মূলত তাদের কাছ থেকে কিনে পার্বত্য চট্টগ্রামের বাজারগুলোতে টুকরো মাংস হিসেবে বিক্রি করেন তারা। কেউ কেউ আস্ত মুরগী কিনে নেন তাদের কাছ থেকে।


বাবলু বলেন, নিয়ম মতো জবাই করার পর ময়লা পরিস্কার করে ক্রেতাদের কাছে তুলে দিচ্ছি আমরা। আজকের বাজারে ২৩০ থেকে ২৪০ টাকা প্রতিকেজি জীবিত মুরগী। আর আমরা সমস্ত ময়লা ছাড়িয়ে নিয়ে একেবারে ফ্রেশ মাংস বিক্রি করছি কেজি ৩শ’ টাকা করে। সেই অর্থে ময়লাছাড়ানো মুরগীই লাভ। ইচ্ছে করলে ভারতীয় স্টাইলে পরিবারে চার সদস্যের জন্য চার পিচ মুরগী কেনার সুবিধাও পাচ্ছে ক্রেতারা।

মুরগী মাংসের ক্রেতা নৌবাহিনীর সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার অনিমেষ বড়ুয়া একুশে পত্রিকাকে বলেন, এই পন্থায় মুরগী মাংস কিনতে পারার সুবিধাটা আমাদের জন্য আশীর্বাদের মতো। নিজের হাতে প্রাণী কাটতে হলো না, পালক, পেটের নাড়িভুড়ি পরিস্কার করতে হলো না-একেবারে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন তৈরি মুরগী পাচ্ছি এখানে।