শনিবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২০, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

রাঙ্গুনিয়ায় বড়শি প্রতিযোগিতার নামে ফের জুয়ার আসর

প্রকাশিতঃ রবিবার, নভেম্বর ১৫, ২০২০, ৬:২৪ অপরাহ্ণ


রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় ফের বড়শি প্রতিযোগিতার নামে জুয়ার আসর বসানোর ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

আগামী মঙ্গলবার (১৭ নভেম্বর) রাঙ্গুনিয়ার পোমরা ইউনিয়নের শান্তিরহাট খয়েরের দিঘীতে কথিত বড়শি প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হচ্ছে বলে পোস্টার ছাপিয়ে প্রচার করা হচ্ছে।

এবার প্রতিটি টিকিটের মূল্য রাখা হচ্ছে ৩৩ হাজার টাকা এবং আসন থাকছে ৬০টি। যিনি সবচেয়ে বড় মাছটি পুকুর থেকে বড়শি দিয়ে উঠাতে পারবেন তার জন্য প্রথম ‘পুরস্কার’ থাকছে ৪ লক্ষ টাকার প্রাইজবন্ড। ২য় ‘পুরস্কার’ ২ লক্ষ টাকার প্রাইজবন্ড এভাবে দশম ‘পুরস্কার’ পর্যন্ত মোট ১০ লাখ ৯৯ হাজার টাকা ১০ জনকে প্রদান করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছে আয়োজকরা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, গত সেপ্টেম্বর থেকে খয়েরের দিঘীতে বড়শি প্রতিযোগিতার নামে জুয়ার আসর বসানো হচ্ছে। সর্বশেষ ১৯ অক্টোবর বড়শি প্রতিযোগিতা দেয়া হয়। উক্ত দিঘীতে তেমন কোন মাছ নেই। প্রতিযোগিতার আগে বিভিন্ন সাইজের কিছু মাছ ছেড়ে দেয়া হয়। কথিত পুরস্কার পেতে হলে রুই, কাতল, মৃগেল ও কালি বাউস মাছই ধরতে হবে। কিন্তু এসব মাছ পুকুরে হাতে গোনা থাকে।

এদিকে এবার ৬০টি টিকিট বিক্রি করে ১৯ লাখ ৮০ টাকা পাচ্ছে কথিত বড়শি প্রতিযোগিতার আয়োজকরা। কথিত পুরস্কার হিসেবে প্রায় ১১ লাখ টাকা দিলেও অবশিষ্ট ৮ লাখ ৮১ হাজার টাকা হাতিয়ে নেবে চক্রটি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগে সৌখিন মৎস্য শিকারীরা বিভিন্ন স্থানে বড়শি প্রতিযোগিতায় অংশ নিত, টিকিটের দাম ৪-৫ হাজার ছিল, মাছও থাকতো পুকুরে, দিঘীতে। এখন বড়শি প্রতিযোগিতার আড়ালে স্রেফ ক্যাসিনো স্টাইলে জুয়া খেলা চলছে, পুকুরে মাছ বলতে নেই। যার কারণে প্রতিটি প্রতিযোগিতায় ছিপ ফেলে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অপেক্ষা করে একটি মাছও পান না বেশিরভাগ মানুষ।

একই কায়দায় চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে বড়শি প্রতিযোগিতার আয়োজন নিয়ে একুশে পত্রিকায় ‘বড়শি প্রতিযোগিতার আড়ালে জমজমাট জুয়া’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর প্রশাসনের তৎপরতায় চট্টগ্রামে বেশ কিছুদিন কথিত বড়শি প্রতিযোগিতা বন্ধ রাখা হয়েছিল। এখন আবার সেটা চালুর ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

এদিকে গত ১৮ ও ২৫ সেপ্টেম্বর এবং ১৯ অক্টোবরসহ বিভিন্ন সময়ে রাঙ্গুনিয়ার খয়েরের দিঘীতে কথিত বড়শি প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এরপর ৮ ও ৯ নভেম্বর আবার কথিত বড়শি প্রতিযোগিতা আয়োজনের ঘোষণা দেয় বড়শি-জুয়াড়িরা।

স্থানীয়দের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ৩১ অক্টোবর ‘এবার রাঙ্গুনিয়ায় বড়শি প্রতিযোগিতার নামে জুয়ার আসর শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করে একুশে পত্রিকা। এরপর প্রশাসন তৎপর হলে ৮ ও ৯ নভেম্বর কথিত বড়শি প্রতিযোগিতা বন্ধ রাখা হয়। এখন বিভিন্ন মহলকে ম্যানেজ করে আবার বড়শি প্রতিযোগিতার নামে জুয়ার আসর বসানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

একজন সৌখিন মৎস্য শিকারী একুশে পত্রিকাকে বলেন, সৌখিন মৎস্য শিকারীদের বেশিরভাগই চান বড়শি প্রতিযোগিতা হোক। কিন্তু সেটা হতে হবে শুধু মাছ ধরার প্রতিযোগিতা, কোনো জুয়া খেলা নয়। এখন পুকুরে মাছ না রেখে, পুরস্কারের কথা বলে ৩০-৪০ হাজার টাকার টিকিট ছাড়া হচ্ছে। ভিন্ন স্টাইলে এই জুয়ার আয়োজন করায় সেখানে শুধু জুয়াড়িরা অংশ নিচ্ছে। বড়শি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য সৌখিন মৎস্য শিকারীদের সুযোগ এখন নেই বললেই চলে। বড়শি প্রতিযোগিতার নামে এই জুয়া খেলার সংস্কৃতির অবসান প্রয়োজন, এটা আগে ছিল না।

এদিকে ইকবাল নামের একজনসহ খয়েরের দিঘীর কয়েকজন মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বড়শি প্রতিযোগিতার আড়ালে জুয়ার আসর বসানোর বিষয়টি অস্বীকার করেন।

এ বিষয়ে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুদুর রহমান একুশে পত্রিকাকে বলেন, পোমরা ইউনিয়নের সচিব ও চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলে আগামী মঙ্গলবারের বড়শি প্রতিযোগিতা বন্ধ করার জন্য বলে দেবো।

রাঙ্গুনিয়া থানার ওসি (তদন্ত) মাহবুব মিল্কী একুশে পত্রিকাকে বলেন, এর আগে এ বিষয়ে জানতাম না। বড়শি প্রতিযোগিতার নামে জুয়া খেলা চালানোর বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।