শুক্রবার, ২২ অক্টোবর ২০২১, ৭ কার্তিক ১৪২৮

নাছির-সুজনের জন্মদিন, একে অপরকে শুভেচ্ছা জানালেন দুই নেতা

প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৪, ২০২১, ৭:০৫ অপরাহ্ণ

জোবায়েদ ইবনে শাহাদত : চট্টগ্রামে রাজনীতির অন্যতম দুই শীর্ষনেতা সাবেক সিটি মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ. জ. ম. নাছির ও সাবেক প্রশাসক ও নগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি খোরশেদ আলম সুজনের জন্মদিন আজ।

রাজনৈতিক সংগ্রাম, বেড়ে ওঠা, নগরবাসীর সঙ্গে আত্মিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে দুই নেতার যেমন অভূতপূর্ব মিল, তেমনি জন্মদিনেও দারুণ অন্ত্যমিল। নগর আওয়ামী লীগের আলোচিত এই দুইনেতা জন্ম নিয়েছেন আজ থেকে ৬৪ বছর আগে। কাকতালীয়ভাবে জন্মসালও একই (১৪ অক্টোবর ১৯৫৭)। দুজনেই পা দিয়েছেন ৬৫ তে।

বুধবার দিনগত রাত ১২টা ১ মিনিটে ৬৪ বছর পূর্ণ করলেন তারা। দুই নেতার প্রতি দলীয় নেতাকর্মী, সতীর্থ, শুভানুধ্যায়ী ছাড়াও বিভিন্ন মহলের শ্রদ্ধা-অনুরাগে ভরে গেছে ফেসবুকের আঙিনা। দুই নেতার সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু কামনাসহ চট্টলরাজনীতির বাতিঘর, আইকন যেন হয়ে ওঠতে পারে সেজন্য প্রত্যাশার ডালা সাজিয়েছেন অনেকেই। আবার অনেক ফুল-ফল আর মিষ্টি নিয়ে হাজির হয়েছেন তাদের বাসভবনে, অফিসে।

যাদের জন্মদিন নিয়ে নগরবাসীর এত উৎসাহ, উদ্দীপনা- সেই উৎসবের বিপরীতে তারা কী ভাবছেন নিজেদের জন্মদিন নিয়ে- তা জানতে একুশে পত্রিকা দ্বারস্থ হয়েছিলো এই দুই নেতার।

জন্মদিনে রাজনৈতিক সহযোদ্ধা, সতীর্থ, দলীয় নেতাকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আ জ ম নাছির উদ্দীন একুশে পত্রিকাকে বলেছেন, ‘রাজনীতিকে কেন্দ্র করে আমার জীবন, বেড়ে ওঠা। রাজনীতিকে সবসময় ইবাদত ও প্রার্থনা জেনেছি, মেনেছি। আশৈশব রাজনীতির সুবাদে চট্টগ্রামের সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে আত্মিক ও ভালোবাসাপূর্ণ অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক তৈরির পাশাপাশি মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুবাদের চট্টগ্রামের সকল পর্যায়ের মানুষের সাথে আমার কাজ করার সুযোগ হয়েছে। রাজনীতি ও জনপ্রতিধি– এই দুই কণ্টকাকীর্ণ পথে মানুষের সহযোগিতা যেমন পেয়েছি, তেমনি অপত্য স্নেহ, ভালোবাসা পেয়েছি। এই শহরের মানুষের ভালোবাসার ভেলায় চড়ে আমি আ জ ম নাছির উদ্দীন হয়ে ওঠেছি।’

জন্মদিনে চট্টগ্রামবাসীর প্রতি অনুরোধ থাকবে- চট্টগ্রামের উন্নয়ন-অগ্রযাত্রায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মিশন-ভিশন বাস্তবায়নে দলমত নির্বিশেষে, মান-অভিমান ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসুন। সহযোগিতার হাত প্রসারিত করুন। তাহলেই চট্টগ্রাম আরও পাল্টে যাবে। আমাকে যারা ভালোবাসেন তাদের বলবো, সকল সংকীর্ণতার উর্ধ্বে ওঠে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ভালোবাসুন, চট্টগ্রামকে ভালোবাসুন, তখনই মনে করবো আপনারা সত্যিকার অর্থে আমাকে ভালোবাসেন। বলেন আ জ ম নাছির উদ্দীন।

দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহযোদ্ধা খোরশেদ আলম সুজনকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, ‘সুজন আমার ভালো বন্ধু। আমরা একই বয়সের। বেড়ে ওঠাওে একসঙ্গে। আমরা বাল্যকালে দীর্ঘসময় একত্রে কাটিয়েছি। এখনও একসঙ্গে রাজনীতি করছি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে রাজনীতিতে সুজন এগিয়ে যাচ্ছেন। পরিচ্ছন্ন একজন রাজনীতিকের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক কর্মকা-ের সাথে সুজনের সম্পৃক্ততা রয়েছে। চট্টগ্রামের বিভিন্ন ইস্যুতে সুজন আন্তরিকভাবে ভূমিকা রাখার চেষ্টা করেন। তার জন্মদিনে আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা রইল। আমি তার সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু কামনা করি।’

নিজের ৬৪তম জন্মদিনে খোরশেদ আলম সুজন একুশে পত্রিকাকে বলেন, আমার কাছে জন্মদিন মানে কর্মদিন। প্রতিবছর যখন এই দিনটা আসে তখন আমার উপলব্ধি হয় আমি তেমন কিছুই করতে পারিনি। তবে সবসময় সাধারণ মানুষের কাছে থেকে তাদের কষ্ট ভাগাভাগির চেষ্টা করেছি। এটা করতে গিয়ে তাদের এতটা ভালোবাসা পেয়েছি। যার কারণে মনে হয় আমার জীবনের স্বার্থকতা বুঝি এখানেই। জন্মদিন উদযাপনে আমি বিশ্বাসী না হলেও মানুষের শুভেচ্ছা পেতে আমার খুব ভালো লাগে। আমি মনে করি এগুলো আমার কাজের স্বীকৃতি।

তিনি বলেন, আমি বরাবরই মানুষের কণ্ঠস্বর হওয়ার চেষ্টা করেছি। চেয়েছি মানবতার সেবায় উৎসর্গ করতে। জীবনের দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে আজ আমি নির্দ্বিধায় বলতে পারি, আমার পাওয়ার বা হারানোর মতো কিছু নেই। কিন্তু মানুষের ভালোবাসা পাওয়ার লোভ আমার সেই ছোটবেলা থেকে। আমার কাছ থেকে সবকিছু কেড়ে নিলেও আমার কোনো আফসোস থাকবে না। কারণ আমি মানুষের ভালোবাসা আর দোয়া পেয়েছি। আমার সীমিত সক্ষমতা-চেষ্টায় চট্টগ্রামবাসীর কাছে আমি যে মূল্যায়ন পেয়েছে এরপর আসলেই আমার চাওয়ার কিছু নেই।

রাজনৈতিক সহযোদ্ধা আ জ ম নাছির উদ্দীনকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে সুজন বলেন, নাছির আমার রাজনৈতিক সহযোদ্ধা। তারচেয়ে বড় কথা নাছির আমার ভালো বন্ধু। ছোটবেলায় আমরা প্রায় ১২ বছর একসঙ্গে পার করেছি। আমরা একসাথে খেলাধূলা করেছি, জুমার নামাজ আদায় করেছি, নামাজ শেষে খেদমত করেছি। সেই স্মৃতিগুলো এখনো আমার চোখের সামনে ভেসে ওঠে। আজকের এই দিনে তার জন্য অফুরান শুভকামনা রইল। আমি চাই এতদিন আমরা যেভাবে একসাথে দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়েছি জীবনের শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত এই বন্ধন যেন অটুট থাকে। থাকবে ইনশাল্লাহ। আমরা একসঙ্গেই চট্টগ্রামকে এগিয়ে নিয়ে যাবো।