সোমবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২১, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

সিলিন্ডার গ্যাসের সরকারি-বেসরকারি দামের পার্থক্য ৭২২ টাকা কেন?

প্রকাশিতঃ মঙ্গলবার, নভেম্বর ৯, ২০২১, ১০:১৩ পূর্বাহ্ণ


মোহাম্মদ রফিক : দেশে বেসরকারি খাতে ১২ কেজি সিলিন্ডারের এলপিজি মূসকসহ ১ হাজার ২৫৯ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৩১৩ টাকা করেছে সরকার। এটি সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য, যা গত ৪ নভেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে। আর উৎপাদন পর্যায়ে ব্যয় পরিবর্তিত না হওয়ায় রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি এলপি গ্যাস লিমিটেডের এলপিজির দাম পরিবর্তন করা হয়নি। সরকারি সাড়ে ১২ কেজি এলপিজির দাম আগের ৫৯১ টাকাই থাকছে। অর্থ্যাৎ সরকারি ও বেসরকারি সিলিন্ডার গ্যাসের সরকারি ও বেসরকারি দামের পার্থক্য ৭২২ টাকা!

কনজিউমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসেন একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘গ্যাসের দাম বাড়িয়ে ব্যবসায়ীদের বেশি বেশি মুনাফা লাভের প্রত্যাশা পূরণ করা হচ্ছে। ভোক্তাদের চিন্তা নেই কারও। সব কিছুর দামই বাড়ছে। কিন্তু কিছু লোক ছাড়া সাধারণ মানুষের আয় বাড়ছে না। সরকারি কর্মকর্তাদের আয় বেড়েছে। কিন্তু তারা তো ২০ লাখ। দেশের মানুষ আরও গরিব হচ্ছে। এই বছর জীবনযাত্রার ব্যয় আরো অনেক বেড়ে গেছে। ফলে মানুষ চরম সংকটে পড়েছে। মানুষের এখন জীবনযাপনই কষ্টকর হয়ে দাঁড়াচ্ছে।’

দেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত কমে আসার ফলে সিলিন্ডারে বাজারজাত এলপি গ্যাসের চুলায় রান্নাবান্নার প্রচলন বাড়ছে। শহরাঞ্চলের অনেক বাসাবাড়ি, হোটেল, রেস্তোরাঁসহ অনেক প্রতিষ্ঠানে গ্যাস-সংযোগ না পাওয়ায় রান্নার কাজে সিলিন্ডারের গ্যাস ব্যবহার করা হচ্ছে। গ্রামাঞ্চলেও জ্বালানির অভাবে অনেক পরিবার এখন লাকড়ির চুলার পরিবর্তে গ্যাসের চুলায় রান্না করকে বাধ্য হচ্ছেন, তারা জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করছেন সিলিন্ডারের গ্যাস। এভাবে চাহিদা বাড়ায় গ্যাসের দামও ক্রমাগত বাড়ছে।

গত ১০ অক্টোবর ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ভোক্তা পর্যায়ে বাড়ানো হয়েছিল ২২৬ টাকা। সেই থেকে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডার মূসকসহ গুনতে হচ্ছিল ১ হাজার ২৫৯ টাকা। কম সময়ের মধ্যে আবারও বেসরকারি খাতে বাড়ানো হলো এলপিজির দাম। ৫৪ টাকা দাম বাড়ানোয় ৪ নভেম্বর থেকে গ্রাহক পর্যায়ে ১২ কেজি এলপিজির দাম পড়ছে ১ হাজার ৩১৩ টাকা।

এর আগে ১০ অক্টোবর ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ভোক্তা পর্যায়ে বাড়ানো হয়েছিল ২২৬ টাকা। সেই থেকে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডার মূসকসহ গুনতে হচ্ছিল ১ হাজার ২৫৯ টাকা। গত ১২ এপ্রিল প্রথমবারের মতো এলপিজি গ্যাসের দাম বেঁধে দেয় বিইআরসি। তখন বলা হয়েছিল, সৌদি রাষ্ট্রীয় কোম্পানি আরামকো ঘোষিত দরকে প্রতি মাসের ভিত্তিমূল্য ধরা হয়েছে। সৌদির দর ওঠানামা করলে এলপিজির মূল্য ওঠানামা করবে। আমদানিকারকের অন্যান্য কমিশন ও খরচ অপরিবর্তিত থাকবে।

কমিশনের সেই নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতি মাসে দর নির্ধারণ করা হচ্ছে। যদিও বিইআরসি ঘোষিত দর খুব কম ক্ষেত্রেই কার্যকর হতে দেখা গেছে। আগে এলপিজির দর ছিল কোম্পানিগুলোর ইচ্ছাধীন। দর নির্ধারণের বিষয়ে অনেক দিন ধরেই কথা হলেও জ্বালানি বিভাগ, বিইআরসি নাকি বিপিসি করবে সে নিয়ে ছিল রশি টানাটানি।

ক্যাবের এক রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট এলপিজির দর নির্ধারণ না করায় বিইআরসিকে শোকজ করে। সে মোতাবেক ১৪ জানুয়ারি গণশুনানি নিয়ে ১২ এপ্রিল দর ঘোষণা করে বিইআরসি। দর ঘোষণার দিনেই আমদানিকারকদের পক্ষ থেকে আপত্তি তোলা হয়। তারা দাবি করে দর বেশি হওয়া উচিত ছিল। এরপর থেকে বিইআরসির সঙ্গে টানাপোড়েন শুরু হয় লোয়াবের। তারা প্রতি মাসের দর ঘোষণাও বর্জন করে। বিভিন্নভাবে বিইআরসির ওপর চাপ তৈরি করে। এমনকি এলপিজি আমদানি বন্ধ করে দেয়ারও হুমকি দেয়া হয়।

একপর্যায়ে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ অনেকটা ব্যবসায়ীদের সুরেই কথা বলতে থাকেন। বিইআরসি অনেকটা বাধ্য হয়েই গত ১৩ সেপ্টেম্বর গণশুনানি গ্রহণ করে ১০ অক্টোবর আমদানিকারকদের কমিশন বাড়িয়ে দেয়া হয়।
গত এপ্রিলে ঘোষিত দরে এলপিজির আমদানিকারক, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতার জন্য ১২ কেজির সিলিন্ডারে মোট ৩৫৯ দশমিক ৪০ টাকা কমিশন নির্ধারণ করা হয়েছিল। সেই চার্জ বাড়িয়ে ৪৪১ টাকা করা হয়েছে। ১২ কেজি সিলিন্ডারে কমিশন বাড়ানো হয়েছে ৮১ দশমিক ৬ টাকা। ডিলার এবং খুচরা বিক্রেতার কমিশন বাড়িয়ে যথাক্রমে ৩৪ ও ৩৮ টাকা করা হয়েছে।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের সদস্য (গ্যাস) মো. মকবুল-ই-ইলাহী চৌধুরী একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘সৌদি আরবে দাম বৃদ্ধির কারণে গ্যাসের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। গাড়িতে ব্যবহৃত এলপিজির দাম ৫৮ টাকা ৬৮ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৬১ টাকা ১৮ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।’

কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের হিসাব অনুযায়ী, প্রতি বছর প্রায় ১২ লাখ টন এলপিজি বাংলাদেশে আমদানি করা হয়। অন্যদিকে এলপিজি সরবরাহকারীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লোয়াব) বলছে, দেশে বর্তমানে এলপিজির ৩৮ লাখ গ্রাহক আছে। চাহিদার ৯৮ শতাংশই পূরণ করছে বেসরকারি খাত। বাসায় রান্নার কাজে প্রতিবছর গ্রাহক বাড়ছে। শিল্পেও অনেকে এলপিজি ব্যবহার করছেন। এ ছাড়া প্রাকৃতিক গ্যাসের সংকট থাকায় এলপিজির চাহিদা বাড়তেই থাকবে।

২০৪১ সাল নাগাদ দেশে এলপিজির চাহিদা কত হতে পারে, তা নিয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি এলপি গ্যাস লিমিটেড। প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে বর্তমানে ৭০ শতাংশ পরিবার রান্নার কাজে লাকড়ি, শুকনা গোবর ও বায়োমাস ব্যবহার করে। বাকিরা প্রাকৃতিক গ্যাস ও এলপিজি ব্যবহার করে। কিন্তু ২০১০ সাল থেকে বাসায় নতুন গ্যাস–সংযোগ বন্ধ রয়েছে।

প্রতিবেদন বলছে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে দেশে ১১ লাখ টনের মতো এলপিজি ব্যবহৃত হয়েছে। এক দশকে দেশে প্রতিবছর এলপিজির ব্যবহার বেড়েছে গড়ে ৩৫ শতাংশ করে। এটি অব্যাহত থাকলে ২০৪১ সালে চাহিদা হওয়ার কথা প্রায় ৭৮ লাখ টন। তবে সব মিলিয়ে এলপিজির চাহিদা দাঁড়াতে পারে ৭০ লাখ টন। এমন প্রেক্ষিতে দেশের এলপিজি খাত নিয়ন্ত্রণ করছে বেসরকারি কোম্পানিগুলো। তারা ইচ্ছেমতো দামে এলপিজি বিক্রি করে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) দাম নির্ধারণ করে দিলেও অনেক সময় তারা মানছে না।

এ অবস্থায় ভোক্তাদের সাশ্রয়ী দামে সরবরাহের লক্ষ্যে সরকারিভাবে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) আমদানির চিন্তা করছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। এ জন্য কক্সবাজারের মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রে একটি এলপিজি টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনা হয়েছে। এখান থেকে বছরে ১০ থেকে ১২ লাখ টন এলপিজি সরবরাহ করা যাবে।

বিপিসি বলছে, বেসরকারি খাতে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্য থেকে এলপিজি আমদানি হচ্ছে। দুই থেকে তিন হাজার টনের জাহাজে এলপিজি আনতে প্রতি টনে খরচ পড়ে ১০০ থেকে ১১০ ডলার। সেখানে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টনের জাহাজে আমদানি করলে খরচ পড়বে ৬৫ থেকে ৭০ ডলার। প্রতি টনে ৩৫ থেকে ৪০ ডলার সাশ্রয় হবে। তাতে দেশে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত সাড়ে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম কমতে পারে প্রায় ৩০০ টাকা।

টার্মিনাল নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে জাপানের একটি কোম্পানির সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই করতে চায় বিপিসি। এর খসড়া যাচাই করছেন বিপিসির আইনজীবীরা। এটি অনুমোদনের জন্য বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পর মাতারবাড়ী এলাকায় নির্মিত হবে রেফ্রিজারেটেড মাদার টার্মিনাল। এ টার্মিনালের জেটি থেকে বেসরকারি কোম্পানির কাছে এলপিজি বিক্রি করা হবে।

বিপিসির তথ্যমতে, দেশে সিলিন্ডারে গ্যাস ভর্তির ১৯টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব জেটির মাধ্যমে আমদানির সুবিধা আছে, আর আমদানি ছাড়াই এলপিজি বিক্রি করছে ৭টি কোম্পানি। নতুন ৫ থেকে ৬টি প্রতিষ্ঠান বাজারে আসার অপেক্ষায় আছে। বেসরকারি খাতে জেটি আছে মোংলা ও সীতাকুণ্ডে। নদীর গভীরতা কম হওয়ায় ছোট জাহাজে আমদানি করা হয়। এতে পরিবহন খরচ বেড়ে যায়। প্রস্তাবিত টার্মিনালে ৪০ হাজার টন ধারণক্ষমতার জাহাজ নোঙর করা যাবে। টার্মিনালে ৫০ হাজার টন মজুত রাখা যাবে। সেখান থেকে দেড় থেকে চার হাজার টনের জাহাজে দেশীয় কোম্পানিগুলোকে এলপিজি সরবরাহ করা হবে। মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রে ইতিমধ্যে একটি এলএনজি টার্মিনাল করা হয়েছে। সেখান থেকে এলএনজি সরাসরি গ্যাসের জাতীয় গ্রিডে যাচ্ছে।

বিপিসির চেয়ারম্যান এ বি এম আজাদ বলেন, ভোক্তার হাতে সাশ্রয়ী দামে এলপিজি তুলে দিতে এলপিজি আমদানির জন্য টার্মিনাল নির্মাণের বিষয়টি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। খসড়াটি সরকার অনুমোদন দিলেই জাপানি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই হবে।

বেসরকারি কোম্পানিগুলোর পকেট ভারি করতেই এলপিজির দামবৃদ্ধি

চট্টগ্রাম নগরের হালিশহর এলাকার গৃহবধূ হাসিনা আক্তার বলেন, ‘এক সময়কার সাড়ে ৩০০ টাকার গ্যাস সিলিন্ডারের দাম আজ ১ হাজার ৩১৩ টাকা। জ্বালানি তেলের দামও বাড়ানো হয়েছে। সবকিছু যেন ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে।’ চকবাজার এলাকার বাসিন্দা বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন বলেন, ‘বেসরকারি কোম্পানিগুলোর পকেট ভারি করতেই এলপিজি গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে। দেশের গরিব মরছে। ধনিরা আরও ধনি হচ্ছে। এ যাত্রার শেষ কোথায় জানা নেই।’

বেসরকারি প্রাণ গ্রুপের চাকুরীজীবী আব্দুল কাদের বলেন, ‘এমনিতেই দ্রব্যমূল্য লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। সিলিন্ডার গ্যাসের দাম গত এপ্রিল থেকে আজ পর্যন্ত বাড়ানো হলো পাঁচবার। সবকিছুর ক্রয়মূল্য তো আয়ত্তের বাইরে চলে যাচ্ছে। এর গন্তব্য কোথায় আজানা।’

চট্টগ্রাম নগরের আলকরণ এলাকার বাসিন্দা চন্দন রায় বলেন, ‘আবাসিকে গ্যাস সংযোগ দিচ্ছে না সরকার। এখন ১২ কেজির একেকটি সিলিন্ডার তেরশ টাকা করুক আর দুই হাজার টাকা করুক গ্যাস ছাড়া তো চুলা জ্বলবে না।’
বালুছড়া এলাকার বাসিন্দা বেলায়েত হোসেন, তিনি একটি পোশাক কারখানায় চাকুরি করেন। মাসে বেতন পান ১৫ হাজার টাকা। বেলায়েত বলেন, আমি নিম্নআয়ের মানুষ। সংসারে ছয় ছেলে-মেয়ে। তারা স্কুলে পড়াশোনা করে। প্রতিমাসে হিসেব করে খরচ করতে হয়। আজ গ্যাস সিলিন্ডার দাম শুনে আমি হতবাক। চিন্তা করে কুল পাচ্ছি না। খরচ কীভাবে সামলাবো। আমি জানি এর কোন সমাধান নাই।’

১৫ বছর ধরে ঘরের রান্নার কাজে এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার করেন আগ্রাবাদ এলাকার গৃহবধূ মরিয়ম বেগম। তিনি বলেন, যেভাবে লাফিয়ে লাফিয়ে গ্যাসের দাম বাড়ছে। তাতে সংসারের খরচ চালাতে হিমশিম খেয়ে যাচ্ছি। আমাদের মতো গরিবের চিন্তা নেই কারও।’

হাটহাজারির ফতেয়াবাদ এলাকার বাসিন্দা ইমরান আলী বলেন, ‘১০ বছর ধরে গ্যাসের সিলিন্ডার ব্যবহার করছি। ২০১১ সালে একেকটা সিলিন্ডার কিনতাম সাড়ে তিনশো টাকায়। একই সিলিন্ডার আজ ১ হাজার ৩১৩ টাকা। বাজারে প্রতিদিন নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে। এখন গ্যাস সিলিন্ডারের দামও যদি বাড়তে থাকে, তাহলে আমার মতো নিম্ন আয়ের মানুষের কী হবে।’

নগরের বাকলিয়া রাহাত্তারপুল এলাকার বেসরকারি কোম্পানির চাকুরীজীবি আবরার মিয়া বলেন, ‘গ্যাস সিলিন্ডারের দাম বাড়লেও ব্যবহার কমানোর উপায় তো নেই। বাসায় রান্না করতে যেটুকু দরকার, তা তো প্রতিমাসে লাগবেই।’

সিলিন্ডার গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধিতে ক্ষুব্ধ ফটিকছড়ির আলফাজ আক্তার বলেন, ‘আবাসিক গ্রাহকেরা কম টাকায় ইচ্ছেমতো গ্যাস খরচ করে। আর আমাদেরকে সিলিন্ডার গ্যাসের পেছনে কয়েকগুণ বেশি টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে।’ বেসরকারি চাকুরিজীবি দিদারুল আলম বলেন, ‘করোনার কারণে গোটা বিশ্বে আর্থিক মন্দা চলছে। বহু মানুষ কাজ হারিয়েছেন। আবার কারও কারও চাকরি না গেলেও আয় কমেছে। এসবের সাথে হু হু করে বাড়ছে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। রান্নার গ্যাসের দামও বাড়ছে পাল্লা দিয়ে। আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের খাপ খাওয়ানো বেশ দুরূহ ব্যাপার হয়ে উঠছে।’

ক্যাবের জ্বালানি বিশেষজ্ঞ শামসুল আলম বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা যেভাবে পরিবর্তনটা চেয়েছে, এই মূল্যহারের পরিবর্তনে সেটাই নিশ্চিত করা হয়েছে। এমনিতেই আন্তর্জাতিক বাজারে যেহেতু ঊর্ধ্বগতি আছে, তার সাথে দর সমন্বয় করতে হবেই। কিন্তু যেসব কারণ দেখিয়ে গ্যাসের দর বৃদ্ধি করা হয়েছে, সেগুলো গ্রহণযোগ্য নয় বলে আমরা মনে করি।’